Bengali website Exit Reader Mode

Shesher kobita, আলোচনা, চরিত্র, প্রাসঙ্গিকতা

Shesher kobitashesherkobita niye sob rokom alochona kora holo. Shesherkobita pdf dewa holo. Apni chaile Shesherkobita pdf download korte paren. premer uponyas Shesherkobita.

Shesher kobita

Shesher kobita

ভালবাসা যেন বিরামহীন এক কবিতা। ভালবাসা এক কেন একাধিক মানুষেও আবদ্ধ না হতেও পারে। ভালবাসার বিরামহীন সুর ‘তাকে’ ডাকতেই থাকে। শেষের কবিতা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ দেখালেন সেই বিরামহীন সুরটাকেই কাব্যিক সুরে বেঁধে।

এই সুরের অন্যদিকে থাকে সীমাহীন বিস্তৃত প্রেম, নিজেকেই যাতে হারিয়ে ফেলা যায়। এ প্রেমের তল পাওয়া যায় না, আকণ্ঠ নিমজ্জনে তাতে শুধু সাঁতরে বেড়ানো যায়।

Shesher kobita details

Shesherkobita pdf download করার আরও একটি Link দিলাম

আমরা শেষের কবিতা উপন্যাসে পরিষ্কার ভাবে দুটি দিক দেখতে পাই। একদিকে নাক উঁচু সমাজের নায়ক অমিত (অমিট) সাদাটাকে কালো প্রমাণ করতে পারলেই যেন অগাদ শান্তি পায়। অন্যদিকে দেখতে পাই শিলং এর প্রকৃতি হৃদয়ে আগলে প্রকৃতি কন্যা হয়েই ধরা দিয়েছে লাবণ্য।

Shillong

শেষের কবিতা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ পুনঃ রবীন্দ্রযুগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদিও রবীন্দ্রনাথের নতুন করে কিছুই প্রমাণ করারছিল না। তবুও হঠাৎ হাওয়ায় ডানা পেয়ে যাওয়া সেই সব কবি সাহিত্যিকদের রবীন্দ্রনাথ একটা জবাব দিয়েছেন শেষের কবিতায়। যোগাযোগ উপন্যাসের পর রবীন্দ্রনাথের এভাবে লাবণ্য অমিতের রোমান্স দিয়ে ফিরে আসা হতবাক করার মতোই। রবীন্দ্রনাথ দেখিয়ে দিলেন উনি চির আধুনিক। চির প্রাসঙ্গিক।

সাহিত্যের সমঝদার অমিত ও লাবণ্য দুজনেই। দুজনের বেড়ে ওঠার ধরন ভিন্ন, জীবন ও যাপনে রয়েছে বৈপরীত্য। তবু একে অপরের মধ্যে যেন নিজের পরিপূরক রূপ খুঁজে পায় তারা। অমিত কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজের তরুণীদের হৃদয়ে মুহূর্তেই আলোড়ন জাগানো এক যুবাপুরুষ। সে-ও তরুণীদের এই আলোড়ন খুব উপভোগ করে। কিন্তু সে যা চায়, তা যেন শুধু ঐ আলোড়ন নয়। সে ফ্যাশন চায় না, চায় স্টাইল। তার মতে, “ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী”

চারদিকে শুধু ফ্যাশনেরই ছড়াছড়ি। চাইতে না চাইতে অমিতও সেই ফ্যাশনের অন্তর্গত দলের সদস্য। কিন্তু লেখক অমিতের মনের চাওয়াটা বুঝতে পেরে বলেছেন, “অমিতের নেশাই হলো স্টাইলে”। তাই সে ফ্যাশনের সঙ্গ উপভোগ করলেও শেষমেশ স্টাইলের কাছেই আশ্রয় খুঁজতে চাইবে, এ আর আশ্চর্য কি!

Shesher kobita pdf download

শেষের কবিতা: রবীন্দ্রনাথ

Shesher  kobita চরিত্র চরিত্রয়ন

অমিত রবীন্দ্রনাথের এক ডোরাকাটা সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথ এমন চরিত্র খুব বেশি আঁকেন নি। অমিত সব কিছুকে তুছ্য তাছিল্য করে সোজাটাকে বাঁকা বানিয়ে নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে তুলে ধরতে চায়। যদিও এমন চাওয়া সবার ভেতরই কমবেশি থাকে কিন্তু পাঁচজনের ভিড় থেকে সবাই নিজেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরতে পারে না। অমিত পেরেছে। ও নিজেকে সাধারণ বলে শুধু নিজের অসাধারণতা দেখানোর জন্যই।

লেখক সেই সময়ের নারী চরিত্র আঁকতে গিয়ে যে কয়েকটি লাইন লিখেছেন তাতেই সব আয়নার মতো সচ্ছ হয়ে যায়।

“এরা খুট খুট করে দ্রুত লয়ে চলে; উচ্চৈঃস্বরে বলে; স্তরে স্তরে তোলে সূক্ষ্মাগ্র হাসি; মুখ ঈষৎ বেঁকিয়ে স্মিতহাস্যে উঁচু কটাক্ষে চায়, জানে কাকে বলে ভাবগর্ভ চাউনি; গোলাপি রেশমের পাখা ক্ষণে ক্ষণে গালের কাছে ফুর ফুর করে সঞ্চালন করে, এবং পুরুষবন্ধুর চৌকির হাতার উপরে বসে সেই পাখার আঘাতে তাদের কৃত্রিম স্পর্ধার প্রতি কৃত্রিম তর্জন প্রকাশ করে থাকে”

শেষের কবিতা

কেমন ছিলেন সেই সময়ের শিক্ষিত মহিলারা। কেমন ছিল তাদের চালচলন সব এখানে স্বচ্ছ। পাশ্চাত্যের পালিশ লেগে যাওয়া অচরণের ছাপ এখানে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ।

উপন্যাস গড়িয়ে গেছে জীবনের নানা রঙের স্বপ্ন আর কবিতায়। কিন্তু উপন্যাসের গতি হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে কেতকীর আগমনে। কেতকী পুরো উপন্যাসটার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাঠক হাহাকার করে বলে উঠে “একি করলেন, ‘ঠাকুর’ একি করলেন!”

আসলে অমিত লাবণ্যের মিলনের জন্য যখন উপন্যাস প্রস্তুত, পাঠক মন চঞ্চল ঠিক তখনই রবির গোধূলি মাখা বিরাগ সুর জড়িয়ে ধরেছে উপন্যাসটিকে। কিছুতেই মিলন হতে দেবো না এই ছিল কলমের দাবী।

রবীন্দ্রনাথ অসাধারণ উপমায় লাবণ্যের প্রেমকে দিঘি বানিয়ে কেতকীকে ডুবিয়ে দিলেন। কেতকি হয়ে রইল সামান্য জলের ঘোড়া। রবি ঠাকুর এখানে অমিতকে দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করালেন ঠিকই কিন্তু পাঠক উপন্যাস শেষের অতী নাটকীয়তা মেনে নিতে পারল না। আমরা পরবর্তী কালে বুদ্ধদেব গুহর ‘একটু উষ্ণতার জন্য’ উপন্যাসেও একই সমস্যা দেখি।

Shesherkobita

এর পরেও শেষের কবিতা আজও উজ্জ্বল। আজও আমরা দেখতে পাই লাবণ্য হতে চাওয়া হাজার হাজার মুখ। প্রায় একশ বছর আগে ঠাকুর যে লাবণ্যকে এঁকেছেন তা সাহিত্যে শুধু নয় সমাজের আঙিনাতেও আজও দুর্লভ।

শেষের কবিতা উপন্যাসের কবিতাগুলো আজীবন প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে। রবীন্দ্রনাথ হৃদয় নিঙড়ে দিয়েছেন শেষের কবিতায়। প্রতিটা কবিতার প্রতিটা লাইন যেন এক একটা মাইলস্টোন।

সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নে বারবার একটি প্রশ্নের দেখা মেলে। ‘শেষের কবিতা’ কোন ধরনের রচনা? উত্তরে চারটি বিকল্পের মধ্যে দুটো থাকে কবিতা ও উপন্যাস। এই উপন্যাসে কবিতার বহু খণ্ডিতাংশ রয়েছে। কবিতার ছন্দে ও লয়ে সুরারোপিত হয়েছে কাহিনীতে। অমিতের আত্মবিশ্বাসী ঝঙ্কার, লাবণ্যের শান্ত স্থির স্রোত দুয়ে মিলে কাব্যকথনে মুখরিত হয়েছে প্রেমে। “দোহাই তোদের একটুকু চুপ কর। ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।”

Shesherkobita এক বিরামহীন ভালবাসার গান

এখানে আরেকটি অদেখা চরিত্রের খোঁজ মেলে। অমিত যে কবির কবিতাকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে, নিবারণ চক্রবর্তী। লাবণ্যের রবীন্দ্রপ্রেমের বিপরীতে সে একেই দাঁড় করিয়ে দিতে চায়। তাকে কেউ চেনে না, জানে না, গালি দেবারও উপযুক্ত মনে করে না। ক্ষণে ক্ষণে এও মনে হয়, অমিত নিজেই কি সেই নিবারণ চক্রবর্তী? সে কি গা ঢাকা দিয়ে আছে হালফ্যাশান প্রগলভ ব্যারিস্টার অমিত রয়ের মধ্যে? কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়, সাথে বহু সম্ভাবনাও।

Shesherkobita

শেষের কবিতার শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে,

“হে ঐশ্বর্যবান,

তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-

গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।

হে বন্ধু, বিদায়”

 

-শেষের কবিতার শেষ নেই। শেষের কবিতা আসলে অবিরাম বেজে চলা রবীন্দ্র যুগের গান শোনায়। শেষের কবিতা প্রতিনিয়ত বলে রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক ছিলেন আছেন এবং থাকবেন।

Seser kobita

শেষের কবিতা উপন্যাসে আলোকপাত করেছেন বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়

Spread the love