Rabindranath Thakur Birthday photo

Rabindranath Thakur birthday, কবিগুরুর জন্মদিন

Rabindranath Thakur birthday, ২৫ শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। এবছর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মদিন। যদিও এবছর বিশ্বকবির জন্মদিন পালন হবে অনলাইনে।

Rabindranath Thakur 159 birthday

Rabindranath Thakur 159 Birthday celebration রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন মানে বাংলা এবং বাঙালির উৎসব। নাচে গানে আবৃত্তিতে ছড়ায় নাটকে কবিগুরুকে স্মরণ করে বাঙালি।


Rabindranath Thakur Birthday photo
Rabindranath Thakur Birthday photo

অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের একাধিক চিঠিতে নিজের জন্মদিন সম্পর্কে উদাসীনতা প্রকাশ করে গেছেন। কবিগুরুর প্রথম জন্মদিন পালন হয়েছিল ২৬ বছর বয়সে। সংকোচের সঙ্গে কবিগুরু সে কথা জানিয়েছেন।

কিন্তু আমাদের কাছে কবিগুরুর জন্মদিন মানে এক অন্যরকম ব্যাপার, কবির কাছে-

Love Kobita Bangla পড়ুন এখানে।

হে নূতন,
দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন ।
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন ।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় ।
উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ ।।

১৩৪৮ সনের ২৩ বৈশাখ কবি নিজেই লিখেছিলেন এই গান।

এবার কবিগুরুর ১৫৯ তম জন্মদিন লকডাউনেপালন করবে বাঙালি। করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে এবছর কবিগুরুর জন্মদিন কেমন ভাবে পালন করার সুযোগ হয়তো আসবে না কিন্তু বাঙালিও পিছিয়ে পড়ার নয়। অনলাইনে পালন হবে এবার কবিগুরুর জন্মদিন।

স্কুল কলেজ বিভিন্ন ক্লাব থেকে সোশাল সাইট গুলোতেও শুরু হয়েছে অনলাইনে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালন করার তোড়জোড়। জুম অ্যাপ্লিকেশন কিংবা গুগল মিট অ্যাপ্লিকেশনে স্কুল কলেজ গুলো নিজেদের অনুষ্ঠান পালন করবে বলে জানিয়েছে।

নিজের নিজের ঘরে বসেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। কালকে ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে কবিগুরুকে নিয়ে যে ঝড় উঠতে চলেছে তার আগাম ইঙ্গিত পাচ্ছে বাঙালি। চারদিক জুড়ে কবিগুরুকে নিয়ে শুরু হয়েছে সাজো সাজো রব।

Premer kobita পড়ুন এখানে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনের কবিতা

নবজাতক’ কাব্যগ্রন্থ থেকে –  

জন্মদিন

তোমরা রচিলে যারে
নানা অলংকারে
তারে তো চিনি নে আমি,
চেনেন না মোর অন্তর্যামী
তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা।
বিধাতার সৃষ্টিসীমা
তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে।
কালসমুদ্রের তীরে
বিরলে রচেন মূর্তিখানি
বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি
রূপকার আপন নিভৃতে।
বাহির হইতে
মিলায়ে আলোক অন্ধকার
কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর।
খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া,
আর কল্পনার মায়া,
আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে
অপরিচয়ের ভূমিকাতে।
সংসারখেলার কক্ষে তাঁর
যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার
মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে,
সাদায় কালোতে,
কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর
কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর।
সে বহিয়া এনেছে যে-দান
সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান–
সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি,
মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি,
আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা।
তোমাদের জনতার খেলা
রচিল যে পুতুলিরে
সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে
এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে।
এ কথা কল্পনা কর যবে
তখন আমার
আপন গোপন রূপকার
হাসেন কি আঁখিকোণে,
সে কথাই ভাবি আজ মনে।

(পুরী, ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৬)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে এই জন্মদিনের কবিতাগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে অনায়াসে। আপনি চাইলে এই কবিতাগুলি Rabindranath Thakur birthday celebration হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

Rabindranath Thakur Birthday photo
Rabindranath Thakur Birthday photo

Rabindranath Thakur poems (Birthday poems)

‘সেঁজুতি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে – 

জন্মদিন

দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ,
ধ্বনির ঝড়ে বিপন্ন ওই লোক।
জন্মদিনের মুখর তিথি যারা ভুলেই থাকে,
দোহাই ওগো, তাদের দলে লও এ মানুষটাকে–
সজনে পাতার মতো যাদের হালকা পরিচয়,
দুলুক খসুক শব্দ নাহি হয়।
সবার মাঝে পৃথক ও যে ভিড়ের কারাগারে
খ্যাতি-বেড়ির নিরন্ত ঝংকারে।
সবাই মিলে নানা রঙে রঙিন করছে ওরে,
নিলাজ মঞ্চে রাখছে তুলে ধরে,
আঙুল তুলে দেখাচ্ছে দিনরাত;
কোথায় লুকোয় ভেবে না পায়, আড়াল ভূমিসাৎ।
দাও-না ছেড়ে ওকে
স্নিগ্ধ -আলো শ্যামল-ছায়া বিরল-কথার লোকে,
বেড়াহীন বিরাট ধূলি-‘পর,
সেই যেখানে মহাশিশুর আদিম খেলাঘর।
ভোরবেলাকার পাখির ডাকে প্রথম খেয়া এসে
ঠেকল যখন সব-প্রথমের চেনাশোনার দেশে,
নামল ঘাটে যখন তারে সাজ রাখে নি ঢেকে,
ছুটির আলো নগ্ন গায়ে লাগল আকাশ থেকে–
যেমন করে লাগে তরীর পালে,
যেমন লাগে অশোক গাছের কচি পাতার ডালে।
নাম ভোলা ফুল ফুটল ঘাসে ঘাসে
সেই প্রভাতের সহজ অবকাশে।
ছুটির যজ্ঞে পুষ্পহোমে জাগল বকুলশাখা,
ছুটির শূন্যে ফাগুনবেলা মেলল সোনার পাখা।
ছুটির কোণে গোপনে তার নাম
আচম্‌কা সেই পেয়েছিল মিষ্টিসুরের দাম;
কানে কানে সে নাম ডাকার ব্যথা উদাস করে
চৈত্রদিনের স্তব্ধ দুইপ্রহরে।
আজ সবুজ এই বনের পাতায় আলোর ঝিকিঝিকি
সেই নিমেষের তারিখ দিল লিখি।
তাহারে ডাক দিয়েছিল পদ্মানদীর ধারা,
কাঁপন-লাগা বেণুর শিরে দেখেছে শুকতারা;
কাজল-কালো মেঘের পুঞ্জ সজল সমীরণে
নীল ছায়াটি বিছিয়েছিল তটের বনে বনে;
ও দেখেছে গ্রামের বাঁকা বাটে
কাঁখে কলস মুখর মেয়ে চলে স্নানের ঘাটে;

সর্ষেতিসির খেতে
দুইরঙা সুর মিলেছিল অবাক আকাশেতে;
তাই দেখেছে চেয়ে চেয়ে অস্তরবির রাগে–
বলেছিল, এই তো ভালো লাগে।
সেই-যে ভালো-লাগাটি তার যাক সে রেখে পিছে,
কীর্তি যা সে গেঁথেছিল হয় যদি হোক মিছে,
না যদি রয় নাই রহিল নাম–
এই মাটিতে রইল তাহার বিস্মিত প্রণাম।

(আলমোড়া, ২২ বৈশাখ, ১৩৪৪)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের জন্মদিন নিয়ে অনেকগুলি কবিতা লিখেছেন। সেই কবিতাগুলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে বেশ সুন্দর ভাবে আবৃত্তি করাও যেতে পারে।

‘স্ফুলিঙ্গ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে – 

৮৮

জন্মদিন আসে বারে বারে
মনে করাবারে–
এ জীবন নিত্যই নূতন
প্রতি প্রাতে আলোকিত
পুলকিত
দিনের মতন।

 

‘শেষ লেখা’ – কাব্যগ্রন্থ থেকে 
১০

আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
তাহাদের হাতের পরশে
মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ,
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;
দিয়েছি উজাড় করি
যাহা-কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে।

(উদয়ন । শান্তিনিকেতন  ৬ মে ১৯৪১ সকাল)

নিচের কবিতাটি রবি ঠাকুর জন্মদিন কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় রেখেছিলেন। এই কবিতাটিও কবির জন্মদিনে ব্যবহার করতে পারেন।

‘জন্মদিনে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে – 

সেদিন আমার জন্মদিন।
প্রভাতের প্রণাম লইয়া
উদয়দিগন্ত-পানে মেলিলাম আঁখি,
দেখিলাম সদ্যস্নাত উষা
আঁকি দিল আলোকচন্দনলেখা
হিমাদ্রির হিমশুভ্র পেলব ললাটে।
যে মহাদূরত্ব আছে নিখিল বিশ্বের মর্মস্থানে
তারি আজ দেখিনু প্রতিমা
গিরীন্দ্রের সিংহাসন-‘পরে।
পরম গাম্ভীর্যে যুগে যুগে
ছায়াঘন অজানারে করিছে পালন
পথহীন মহারণ্য-মাঝে,
অভ্রভেদী সুদূরকে রেখেছে বেষ্টিয়া
দুর্ভেদ্য দুর্গমতলে
উদয়-অস্তের চক্রপথে।
আজি এই জন্মদিনে
দূরত্বের অনুভব অন্তরে নিবিড় হয়ে এল।
যেমন সুদূর ওই নক্ষত্রের পথ
নীহারিকা-জ্যোতির্বাষ্প-মাঝে
রহস্যে আবৃত,
আমার দূরত্ব আমি দেখিলাম তেমনি দুর্গমে-
অলক্ষ্য পথের যাত্রী, অজানা তাহার পরিণাম।
আজি এই জন্মদিনে
দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ
নির্জন সমুদ্রতীর হতে।

(উদয়ন, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ –  সকাল)

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.