Ishwar Chandra Vidyasagar Rachana for madhyamik and HS

Ishwar Chandra Vidyasagar Rachana is very important for all classes

এবছর Madhyamik 2020 এবং Uchch Madhyamik 2020 এর জন্য Ishwar Chandra Vidyasagar Rachana খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছাত্র ছাত্রীদের সুবিধার জন্য আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচনাটি লিখে দিলাম




Ishwar Chandra Vidyasagar Rachana

ভূমিকা

বিদ্যাসাগরকে নিয়ে কিছু লিখতে বসলেই সবার প্রথমে মনে আসে মধুসূদন দত্তের প্রিয় বিদ্যাসাগর কবিতা-র  লাইনগুলি,-

বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে।
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু !– উজ্জল জগতে
হেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে।
কিন্তু ভাগ্য-বলে পেয়ে সে মহা পর্বতে,
যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে,
সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতে
গিরীশ। কি সেবা তার সে সুখ সদনে !
দানে বারি নদীরূপ বিমলা কিঙ্করী।
যোগায় অমৃত ফল পরম আদরে
দীর্ঘ-শিরঃ তরু-দল, দাসরূপ ধরি।
পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে,
দিবসে শীতল শ্বাসী ছায়া, বনেশ্বরী,
নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে।
বিদ্যাসাগর শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের বুকেই নয় সমগ্র বিশ্বসাহিত্যের দরবারে এক বিস্ময়। ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে উনার জন্ম হয়।
উনি ছিলেন নারী জাগরণের কাণ্ডারী। বাংলার প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা। নিজের আলোয় তিনি বাংলাকে আজও আলোকিত করে রেখেছেন।
বিদ্যাসাগর নাম উচ্চারিত হলে চোখে ভাসে এক দূরন্ত বালক, হাজার বাধার প্রাচীর পেরিয়ে যাঁর যাত্রা মহাকাশের দিকে।

Ishwar Chandra Vidyasagar childhood বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা 

ছেলেবেলা থেকেই বিদ্যাসাগর ছিলেন অবাধ্য। অপ্রতিরোধ্য। সবার কথার বিপরিতে ছিল উনার পথ। বাংলার বিখ্যাত দামাল সন্তান ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র।

বাজার করা থেকে উনুন জ্বালিয়ে রান্না করা সব নিজের হাতেই করতেন। তবুও ক্লান্তি তাঁকে গ্রাস করতে পারত না। রাতের ঘুমকে ত্যাগ করে নিজের পড়া চালিয়ে যেতেন। ঘুম এলে চোখে তেল লাগিয়ে আরও পড়তেন।

নিজের অদম্য বিশ্বাস আর মানুষের প্রতি ভালবাসা ঈশ্বরচন্দ্রকে দয়ারসাগরে পরিনত করেছিল।

একবার তো তিনি নিজের বস্ত্র খুলে দান করে গামছা পরে বাড়ি ফিরেছিলেন। মধুসূদন দত্তের অর্থ কষ্টের সময় উনাকে টাকা পাঠিয়ে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এমনি এমনিই উনাকে দয়ারসাগর বলা হয় না। উনার দয়ার কথা বলতে গেলে কয়েকটা দিন এমনিই কেটে যাবে হয়তো।

বিদ্যাসগরের কর্ম জীবন

বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পুরো জীবনটাই কেটেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই।  উনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। স্ত্রীশিক্ষার প্রচলক। বিধবা বিবাহ প্রবর্তক। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের কাণ্ডারী।

শুধুমাত্র শিক্ষাদান করা নয় পুরো সংসারকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করার ভার নিজের কাঁঁধে সেচ্ছায় নিয়েছিলেন তিনি।

বঙ্কিমচন্দ্রের মতো শিক্ষিত মানুষ পর্যন্ত বিদ্যাসাগরের বিরুদ্ধাচারণ করেছিলেন সেই সময়। তবুও বিদ্যাসাগর ছিলেন অদম্য। হাজার প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেছিল উনার একার বিদ্রোহ। এবং সেই বিদ্রোহে উনি জয়লাভ করেছিলেন।

স্ত্রীশিক্ষার প্রসার বাল্যবিবাহ রোধের চেয়েও ভয়ানক ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল উনাকে বিধবা বিবাহ প্রচলন করার সময়। এই সময় প্রায় নিঃসঙ্গতা গ্রাস করেছিল উনাকে। বন্ধুবান্ধব সবাই নীরবে সরে গিয়েছিল সেই সময়, তবুও উনি থামেন নি। জয় নিয়ে এসেছিলেন।

Ishwar Chandra Vidyasagar Rachana with publishing year

শিক্ষামূলক গ্রন্থ    সম্পাদনা

বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)

ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)

সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)

ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

অনুবাদ গ্রন্থ    সম্পাদনা

হিন্দি থেকে বাংলা

বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭ ; লল্লুলাল কৃত বেতাল পচ্চীসী অবলম্বনে)

সংস্কৃত থেকে বাংলা

শকুন্তলা (ডিসেম্বর, ১৮৫৪ ; কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে)

সীতার বনবাস (১৮৬০ ; ভবভূতির উত্তর রামচরিত ও বাল্মীকি রামায়ণ-এর উত্তরাকান্ড অবলম্বনে)

মহাভারতের উপক্রমণিকা (১৮৬০ ; ব্যাসদেব মূল মহাভারত-এর উপক্রমণিকা অংশ অবলম্বনে)

বামনাখ্যানম্ (১৮৭৩ ; মধুসূদন তর্কপঞ্চানন রচিত ১১৭টি শ্লোকের অনুবাদ)

ইংরেজি থেকে বাংলা

বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮ ; মার্শম্যান কৃত হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল অবলম্বনে রচিত)

জীবনচরিত (১৮৪৯ ; চেম্বার্সের বায়োগ্রাফিজ অবলম্বনে রচিত)

নীতিবোধ (প্রথম সাতটি প্রস্তাব – ১৮৫১ ; রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের মরাল ক্লাস বুক অবলম্বনে রচিত)

বোধোদয় (১৮৫১ ; চেম্বার্সের রুডিমেন্টস অফ নলেজ অবলম্বনে রচিত)

কথামালা (১৮৫৬ ; ঈশপস ফেবলস অবলম্বনে রচিত)

চরিতাবলী (১৮৫৭ ; বিভিন্ন ইংরেজি গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা অবলম্বনে রচিত)

ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯ ; শেক্সপিয়রের কমেডি অফ এররস অবলম্বনে রচিত)

ইংরেজি গ্রন্থ    সম্পাদনা

পোয়েটিক্যাল সিলেকশনস্

সিলেকশনস্ ফ্রম গোল্ডস্মিথ

সিলেকশনস্ ফ্রম ইংলিশ লিটারেচার

মৌলিক গ্রন্থ সম্পাদনা

সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩)

বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)

বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (প্রথম খন্ড ১৮৭১, ২য় খন্ড ১৮৭৩)

অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক (১৮৭৩, বিধবা বিবাহ বিরোধী পন্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে।)

ব্রজবিলাস (১৮৮৪)

রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬)

প্রভাবতী সম্ভাষণ (সম্ভবত ১৮৬৩)

জীবন-চরিত (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)

শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪)

নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস (১৮৮৮)

ভূগোল খগোল বর্ণনম্ (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)

সম্পাদিত গ্রন্থ    সম্পাদনা

অন্নদামঙ্গল (১৮৪৭)

কিরাতার্জ্জুনীয়ম্ (১৮৫৩)

সর্বদর্শনসংগ্রহ (১৮৫৩-৫৮)

শিশুপালবধ (১৮৫৩)

কুমারসম্ভবম্ (১৮৬২)

কাদম্বরী (১৮৬২)

বাল্মীকি রামায়ণ (১৮৬২)

রঘুবংশম্ (১৮৫৩)

মেঘদূতম্ (১৮৬৯)

উত্তরচরিতম্ (১৮৭২)

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ (১৮৭১)

হর্ষচরিতম্ (১৮৮৩)

পদ্যসংগ্রহ প্রথম ভাগ (১৮৮৮ ; কৃত্তিবাসি রামায়ণ থেকে সংকলিত)

পদ্যসংগ্রহ দ্বিতীয় ভাগ (১৮৯০ ; রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রচিত অন্নদামঙ্গল থেকে সংকলিত)

উপসংহার

Ishwar Chandra Vidyasagar and model Bengali culture

বিদ্যাসাগর আজীবন বাংলা এবং বাঙালির জন্য নিজেকে বিলিয়ে গেছেন। বাংলা ভাষা এবং বাংলার সংস্কৃতির জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তথচ নির্বোধ সেই বাঙালিই আজ উনার মূর্তি ভাঙতে পিছু পা হয় না। আমরা এই লজ্জা মাথায় নিয়েই বিদ্যসাগর দ্বিশততম জন্ম জয়ন্তী পালন করলাম।

আমরা আজ বিদ্যাসগরের শিক্ষা সংস্কৃতি সব ভুলতে বসেছি। প্রতিদিন বাড়ছে নারী নির্যাতন। ধর্ষণ। মেয়েরা আজও সমাজের কাছে আত্মসম্মান আর আত্মমর্যাদা আদায়ের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে।

Spread the love

Leave a Reply