Bangla golpo kobita uponyas choti golpo bangla shayari sob ache ekhane. Choti kahini vs Bengali story ফেরারি সময় – Bengali website
X

Choti kahini vs Bengali story ফেরারি সময়

আপনারা যারা choti kahini পড়েন বা পড়তে পছন্দ করেন তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ choti kahini বাদ দিয়ে ভাল Bengali story পড়ুন। একটা ভাল Bengali story আপনার মনকে সুস্থ সবল সাভাবিক রাখবে।

আমার ব্যাক্তিগত চ্যালেঞ্জ রইল choti kahini র চেয়ে অনেক বেশি ভাল লাগবে এই গল্প।

তবুও যারা choti kahini পড়তে চান তাদেরকে কয়েকটা গল্প দিলাম

1)Bangla choti

2) Bangla choti golpo

3) best choti golpo

 

Choti kahini vs Bengali story

Choti kahini vs Bengali story

ফেরারি সময়, বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়

Choti kahini vs Bengali story

২৫/০৮/২০১৪ দাদর ষ্টেশন থেকে মুম্বাই এল টি টি (কুরলা) এক্সপ্রেস যখন ছাড়ল তখন ষ্টেশনের ঘড়িতে বাইশটা বেজে দু’মিনিট। মিনিট সাতেক লেট। ভালোভাবে চললে ছত্রিশ ঘণ্টাতেই খড়্গপুর। খড়্গপুরে নেমে বাস ধরেই সোজা বাড়ি চলে যাবে প্রতাপ। শিবাজি নগর থেকে ভইওয়াদা কৃষ্ণানগর হয়ে দাদর ষ্টেশনে এসেছে ও। এতে রাস্তাটা একটু ঘুর পথে হলেও ভিড়ভাড় খুব একটা থাকে না এদিকটায়। আজকেও ছিল না। তাই সময় কম লেগেছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরেটা তাকিয়ে দেখে প্রতাপ, আজকের মুম্বাইকে যেন অন্যরকম লাগছে। হয়তো আর কোনদিনেই মুম্বাই আসা হবে না ওর। মনটা ভারী হয়ে আসে। দেখতে দেখতে চার চারটা বছর পেরিয়ে গেছে, চারটা বছর তো আর কম দিন নয়।


ষ্টেশন থেকে বেরিয়ে ট্র্যাক চেঞ্জ করে ট্রেনটা মৃদুমন্দ গতিতে ছুটতে শুরু করল এবার। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রতাপের চোখে মুম্বাই শুধুই স্মৃতির শহর হয়ে যাবে। শিবাজি নগরের সেই ছোট্ট রুমটা সন্ধা বেলায় আর অপেক্ষা করবে না প্রতাপের জন্য। একটা স্বস্তির নিশ্বাস বেরিয়ে আসে প্রতাপের নাকমুখ দিয়ে। চারবছর অপেক্ষা করার পরে বাড়ি ফেরার সুযোগ। এতদিন পরে বাড়ি ফিরলে কার না দুচোখ স্মৃতিতে ঝাপসা হয়ে আসে। যা একদিন ফেলে এসেছিল সে গুলোও যেমন মনে পড়ছে ঠিক তেমন ভাবেই মনে পড়ছে যা আজকে ফেলে যাচ্ছে। এই ফেলে আসা আর ফেলে যাওয়ার মাঝের সময় টুকুতে দাঁড়িয়ে আজকে প্রতাপের কত স্মৃতিই না উপচে পড়ছে। ব্যাগের ভেতর হাত ঢোকাতেই একটা বড় মতো ঝিনুক বেরিয়ে আসে। এটা শুধুই কি ঝিনুক? না, তা কিন্তু নয়। ঝিনুকটার পেটের ভেতর সিঁদুর রাখা আছে। সেঞ্চুরি বাজার থেকে নিশার জন্য কেনা। সেঞ্চুরি বাজারে প্রত্যেক রবিবার ঝিনুকের হরেক রকম জিনিশ বিক্রি হয়। ঝিনুকটা নাড়াচাড়া করতে করতে সেইসব ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে প্রতাপের…


তখন প্রতাপ একুশ, থার্ড ইয়ার। নিশা উনিশ, ফাস্ট ইয়ার। বসন্তের এক বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রথমবার নিশাকে দেখেছিল প্রতাপ। নিশাও কলেজ থেকেই বান্ধবীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল সেদিন। প্রথম দেখাতেই নিশাতে মজেছিল প্রতাপ। তারপর থেকে রোজেই দেখা হত। নিশাদের ক্লাস একটু দেরিতে শেষ হত বলে প্রতাপকে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। প্রথম কয়েকটা মাস শুধু চোখে চোখে কথা। বান্ধবীদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে লাজুক হেসে পেরিয়ে যেত নিশা। অগোছালো চুলের ফাঁক দিয়ে আড়চোখে দেখত প্রতাপকে। তারপর শুরু হল দূর থেকে ছুড়ে ছুড়ে কথাবলা। তারও অনেক পরে শুরু হয়েছিল পত্র বিনিময়। এভাবে চলতে চলতেই কবে কখন কীভাবে দুজনের প্রেমটা জমে প্রজাপতি হয়েছিল একথা প্রতাপ নিশা কেউই ঠিক ভাবে বলতে পারবে না হয়তো। যতদিন প্রেমটা চলছিল ততদিন তেমন কেউ জানতে পারেনি। সমস্যাও হয়নি ততদিন। তারপর যখন প্রেম দৌড়োতে শিখল, তখন থেকেই যত বিপত্তি।


নিশার মা যখন বুঝতে পেরেছিলেন মেয়ে রোজ সন্ধায় সাজু গুজু করে টিউশনের নামে অভিসারে যায় তখন ঠাণ্ডা মাথায় লাগাম টেনেছিলেন। প্রতাপকে একদিন বাড়িতে ডেকে তিনি বুঝিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা তুমি তো নিশার চেয়ে বয়সে বড় তাই তোমাকেই বলছি, তুমিও তো ইতিহাসের ছাত্র তাই প্রতিদিন গলিতে গলিতে না ঘুরে যদি তুমিই রোজ সন্ধায় আমাদের বাড়িতে এসে নিশাকে ইতিহাসটা পড়িয়ে দিয়ে যাও তাহলে তোমাদের দুজনরেই ভাল হবে।’ নিশার বাড়িতে গিয়ে ওকে টিউশন পড়ানোর সুযোগটা লুফে নিয়েছিল প্রতাপ। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছিল টোপটা গিলে ভুল করেছে।


প্রতাপের কলেজ জীবন শেষ হবার পর সমস্যাটা আরও বেড়েছিল। টিউশন পড়াতে গিয়ে দেখা হলেও কাজের কথা কিছুই হত না। তখনো মার্কেটে মোবাইলের দাপাদাপি শুরু হয়নি, তাই কথা বলার সুযোগেই হত না। নিশাকে পড়ানোর সময় ওর মা মেছো বেড়ালের মতো পাহারায় বসে থাকতেন। শেষ পর্যন্ত নিশার মাথায় এক বুদ্ধি এসেছিল। ওই বুদ্ধির বলেই নিজেদের কথাবার্তা চালাত টুকটাক। বিষয়টা তেমন জটিল কিছুই ছিল না, অনেকেই এমনটা করত এক সময়। প্রতাপের মনে আছে নিশা প্রথম যেদিন খাতায় লিখে রেখেছিল, ‘nppo wbmp ofj’ কিছুই মাথা মুণ্ডু বুঝতে পারেনি ও। অক্ষর গুলো শুধু মনে মনে বিড়বিড় করেছিল কয়েকবার। পরে নিশা যখন বলেছিল প্রতিটা অক্ষরের আগের অক্ষর ধরে পড়তে হবে, তখন বুঝেছিল। ‘moon valo nei’ লিখেছে নিশা। নতুন ভাষাটা শিখতে দুজনেরেই সময় লেগেছিল ঠিক কথাই কিন্তু এই ভাবে প্রেম করার মজাটাই ছিল আলাদা।
প্রতাপ যেদিন নিশাকে জিজ্ঞেস করেছিল ‘আর যখন ‘a’ আসবে তখন কী করব ?’


মুচকি হেসে নিশা বলেছিল, ‘তুমি না খুব বোকা। ‘a’ যখন আসবে তখন ওটাকে ‘z’ ধরতে হবে।’
প্রতাপ সেদিনেই নিশার খাতায় লিখেছিল, ‘j mpwf zpv ojtib’ অর্থাৎ ‘I love you nisha’ নিশার মা সামনে বসে থেকেও বুঝতে পারেননি, মেয়ে পড়ার নামে প্রেমালাপ করছে বলে।


কথা গুলো মনে পড়তেই প্রতাপের মুখে একটা হাসির ঝিলিক ফুটে ওঠে। ট্রেনটা এখন অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। ঝিনুকের সিঁদুর কৌটাটা আবার ব্যাগের ভেতর যত্ন করে রেখে দেয় প্রতাপ। একদিন হঠাৎ করেই বাড়ি মালিকের ল্যান্ড নম্বরে ফোন করেছিল নিশা। ওটাই প্রথম ওটাই শেষবার। সেদিনেই বলেছিল আসার সময় একটা সিঁদুর কৌটা কিনে আনতে।


প্রতাপের কলেজ জীবন শেষ হবার পরেই একবার দুমকরে নিশা চলে এসেছিল ওর বাড়ি। সেদিন প্রতাপের বাড়িতে কেউই ছিল না। বিয়েবাড়ি না কোথায় যেন গিয়েছিল সবাই। নিশা এসেই বলেছিল, ‘খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল, তাই চলে এলাম।’ প্রতাপ কিছুই বলতে পারেনি। নিশার মিষ্টি মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হেসেছিল মাত্র। হালকা হলুদ রঙের একটা শাড়ি পরে এসেছিল সেদিন নিশা। সেদিনের পর লুকিয়ে ছুপিয়ে যে কয়েকবার দুজনের দেখা হয়েছিল প্রতিবারেই নিশা ওই হলুদ শাড়িটাই পরে এসেছিল। প্রতাপের কথা কাটতে পারেনি। সেদিন দুপুর বেলায় মেঘ এসেছিল ঘটাকরে। বৃষ্টি হয়েছিল খুব। প্রতাপকে জড়িয়ে ধরে ময়ূরীর মতো সেদিন ভিজেছিল নিশা। নিশাকে বুকে জড়িয়ে ভিজতে ভিজতে কী যেন হয়েছিল সেদিন প্রতাপের। ভেতর থেকে কে যেন ওকে বলে দিয়েছিল নিশাকে চুম্বন করার কথা। সেদিন আপত্তি করেনি নিশাও। সেই সব দিন গুলোর কথা ভাবতে ভাবতেই প্রতাপের চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসে আবার। খুব ইচ্ছে করে, আবার নিশাকে বুকে জড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে।


ট্রেনটা অনেকক্ষণ হল ছাড়ছে না দেখে এবার জানালার পাল্লা তুলে উঁকি মেরে বাইরেটা দেখার চেষ্টা করে প্রতাপ। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। ট্রেনের ভেতরের লাইট পাখা সব বন্ধ। গরমে ঘেমে যাচ্ছে প্রতাপ এবার। ঠিক এমন সময় চোখে পড়ে ট্রেনের কামরাটা দিয়ে ধোঁয়া বেরহচ্ছে। প্রতাপ চিৎকার করে উঠে, ‘আগ আগ, সব বহার নিকল যাও।’ ট্রেনের কপাট জানালা খুলে যে যেদিকে পারছে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। একজন ভদ্র মহিলা কোলের বাচ্চাটাকে নিয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছেন। আগুনের লেলিহান ছড়িয়ে পড়ছে একটা কামরা থেকে আরেকটা কামরায়। এক মুহূর্তেই সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। প্রতাপও ছুটছে এদিক সেদিক। চারদিক দিয়ে হুড়মুড় করে সবাই নামার চেষ্টা করছে। ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছে পাশের কামরার যাত্রীরা। ওদের দরজা লক হয়ে গেছে, খুলছে না কিছুতেই। প্রতাপ আবার চিৎকার করে, ‘আমার জামা কাপড়ে আগুন লেগে গেছে আমাকে নামতে দিন, প্লিজ মুঝে উতরনে দিজিয়ে… ’ কেউ শুনতে পাচ্ছে না ওর কথা। ট্রেনের ভেতর দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। দূরের থেকে ভেসে আসছে দমকলের শব্দ। প্রতাপের চোখ ঢলে পড়ছে এবার। চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে আসছে। আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না ও। কারা যেন ওকে টানতে টানতে নীচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে…


এক choti kahini vs Bengali story


২৭/০৮/২০১৪ বেলা এগারটা বেজে পনের মিনিট। ডাক্তার আকাশ বসু চেম্বারে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই উনাকে প্রায় চেপেই ধরে সুনিয়ম, ‘কেমন বুঝলেন সার, দাদা ভাল হবে তো ?’
‘দেখুন মিঃ সরকার, এই সব কেশে কিছুই বলা সম্ভব নয়। ভাল হতেও পারে আবার নাও পারে। তবে আপনার দাদার কেশটা একটু গোলমেলে বুঝলেন।’ একটা সিগারেট জ্বালাতে জ্বালাতে কথা গুলো বলেন ডাঃ বসু।
‘গোলমেলে বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন ?’ জিজ্ঞেস করে সুনিয়ম।


‘আসলে আমি এর আগে এমন কেশ দেখিনি। আপনার দাদার তো এটা প্রথম বার নয়। এর আগেও উনি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন। তবে এবারেরটায় মারাত্মক কিছু হতে পারত। উনি তো এল টি টি এক্সপ্রেসে চড়েই বসেছিলেন। ভাগ্যিস ট্রেনটা ওয়াস রুমে যাচ্ছিল। একবার ভাবুন তো ট্রেনটা ওয়াস রুমের পরিবর্তে যদি খড়্গপুরের দিকে রওনা দিত। আর ট্রেনের গার্ড গুলোও বলিহারি, দরজা কপাট বন্ধ করার সময় ভাল করে ভেতরটা দেখেও না!’
‘কিন্তু দাদা বারবার খড়্গপুর যেতে চাইছে কেন সেটাও তো বুঝতে পারছি না।’
একটুকরো ধোঁয়ার কুণ্ডলী জানালা দিয়ে ছুড়ে ডাঃ আকাশ বসু কিছু যেন চিন্তা করেন। তারপর বলেন, ‘দেখুন মিঃ সরকার ডাক্তারির বইয়ে এমন রুগীর কোনও সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি। উনাকে যতবার জিজ্ঞেস করেছি উনি এক কথাই প্রতিবার বলেছেন। বাট আই ডোন্ট নো, কে এই নিশা! কেই বা প্রতাপ। এই চারবছরে উনাকে যতবার জিজ্ঞেস করেছি উনি ততবারেই নিজের নাম প্রতাপ হালদার বলেছেন। আর নিশা নাকি উনার লাভার।’
‘কিন্তু আপনি তো জানেন, দাদার নাম…’
‘সুসময় সরকার’
‘আর নিশা নামের কাউকেই তো আমরা চিনি না। দাদার এক্সিডেন্টের আগে ওই মহিলার নাম দাদার মুখেও কোনদিনেই শুনিনি।’ বেশ উত্তেজনার সঙ্গেই কথা গুলো বলে সুনিয়ম।
‘বাট মিঃ সরকার উনি তো বারবার বলছেন সুসময় সরকার নামের কাউকেই উনি চেনেন না। এমন কী উনি উনার গ্রামের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, গ্রামের ঠিকানা… আচ্ছা মিঃ সরকার একবার গিয়েই দেখুন না খড়্গপুর থেকে সতের কিমি দূরে স্বর্ণলতা বলে কোনও গ্রাম সত্যিই আছে কী না। তাহলে অন্তত বোঝা যাবে পুরোটাই উনার কল্পনা না অন্যকিছু।’
‘আপনি বিশ্বাস করুণ আমি বা আমার দাদা কোনও দিনেই ওয়েস্ট বেঙ্গল যাইনি। পৈতৃক সূত্রে আমরা বাঙালী হলেও আমাদের দুভাই কিন্তু মুম্বাইয়েই জন্মেছি। আর এখানেই বেড়ে উঠেছি।’
‘ওসব তো আমার অজানা নয়। তবুও একবার গিয়ে দেখতে দোষ কী ?’ সিগারেটের টুকরোটায় একটা লম্বা টান দিয়ে ছিলেন তাই ধোঁয়ার সাথেই কথা গুলো বেরিয়ে আসে ডাঃ বসুর মুখ থেকে।
‘আপনি কী বলতে চাইছেন, ওই নামের গ্রাম ওখানে থাকতে পারে ? আমি ইন্টারনেট সার্চ করে দেখেছি গুগল ম্যাপ খুলে দেখেছি কিন্তু কোথাও কিছুই পাইনি।’
‘দেখুন মিঃ সরকার এতটা উত্তেজিত হবেন না। এটা মেন্টাল হসপিটাল।’
‘আই এম সরি, বাট দাদা কিন্তু কার এক্সিডেন্টের আগে…’
‘আমি জানি উনি যা বলছেন সবেই উনার এক্সিডেন্ট পরবর্তী কল্পনা। কিন্তু আপনার ওখানে গিয়ে একবার খোঁজ করতে সমস্যাটা কোথায় ? দেখুন ওসব ইন্টারনেট আর ম্যাপ ঘেঁটে কোনও প্রত্যন্ত গ্রামকে খোঁজা যায় না। সরজমিন গিয়ে দেখে আসুন।’ কথাটা বলেই ডাঃ বসু বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, গেটের মুখে এক ভদ্র মহিলাকে ভেতরে ঢুকতে দেখে বাধা পেয়ে দাঁড়ালেন।
‘ভেতরে আসতে পারি ?’ জিজ্ঞেস করলেন ভদ্র মহিলা। বয়স আন্দাজ মতো ওই পঞ্চান্ন থেকে ষাটের ভেতরেই হবে হয়তো। কাঁচাপাকা চুলে চোখের চশমাটা মানিয়েছে বেশ।
‘হাঁ আসুন।’ ভদ্রমহিলাকে ভেতরে আসতে বলেন ডাঃ বসু।
‘আমি একবার প্রতাপ হালদারের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
‘প্রতাপ হালদার!’ ডাঃ বসুর মুখ থেকে কথাটা অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে। ভদ্রমহিলার মুখে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করেন উনি। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘সরি, এখানে ওই নামের কোনও রুগী বা কর্মচারী নেই।’
‘আপনি ভাল করেই জানেন আমি কার কথা বলছি। গত পরশুদিন যে ভদ্রলোক দাদর ষ্টেশনে আগুন আগুন বলে চিৎকার করে এক বিরাট বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিলেন উনি যে এই মেন্টাল হসপিটালেই আছেন সেটা আমি আজকের নিউজ পেপারেই দেখছি। আমি একবার উনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
‘কেন ? আপনি চেনেন উনাকে ?’
‘ঠিক চিনি বলতে পারব না। তবে চিন্তেও তো পারি।’
‘বুঝলাম না ঠিক কী বলতে চাইছেন ?’ কথাটা বলতে গিয়ে ডাঃ বসুর কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়ে এবার। তিনি আবার বলেন, ‘উনার সাথে যখন তখন দেখা করতে দেওয়া সম্ভব নয়। আপনি নিশ্চয় জানেন উনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি।’
কথাটা শুনেই ভদ্রমহিলার মুখটা কেমন যেন শুকিয়ে যায়। তবুও তিনি মুখটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেই বলেন, ‘আসলে আমি কলকাতা থেকে উড়ে এসেছি কেবল মাত্র উনার সাথে দেখা করব বলেই।’
‘কিন্তু কেন ?’ এবার প্রশ্নটা সুনিয়ম করে।
‘উনাকে একটা লেখা পড়তে দেবো।’
‘আপনি কি হেঁয়ালি করছেন ?’ জিজ্ঞেস করে সুনিয়ম।
‘হেঁয়ালি করার জন্য নিশ্চয় কলকাতা থেকে এখানে আসিনি।’
‘কী লেখা পড়তে দেবেন, দেখতে পারি ?’ জিজ্ঞেস করেন ডাঃ বসু।
‘নিশ্চয়।’ বলে ভদ্র মহিলা একটুকরো কাগজ ডাঃ বসুর হাতে তুলে দেন।
ডাঃ বসু দেখেন কাগজের টুকরোটাতে লেখা আছে, ‘bnj upnblf blipop wbmpcbtj’ তিনি লেখাটার কিছুই বুঝতে না পেরে বলেন, ‘এটা উনি পড়তে পারবেন! কী মানে এই লেখাটার ?’
‘হাঁ পারলে উনিই পারবেন। লেখাটা উনাকে দিয়েই দেখুন না।’
‘কী লেখা আছে এতে ?’
‘আমি তোমাকে এখনো ভালবাসি।’
ডাঃ বসু কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বলেন, ‘তার মানে আপনি বলতে চাইছেন আপনিই উনার কল্পনার সেই…’
‘ওসব পরের কথা। আগে দেখা যাক উনি লেখাটা পড়তে পারেন কী না।’


দুই choti kahini vs Bengali story

Choti kahini vs Bengali


তিনজনেই ঘরের থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ডাঃ বসু ভদ্রমহিলাকে সুসময় সরকারের কাছে নিয়ে গিয়ে বলেন, ‘সুসময় বাবু দেখুন আপনার সঙ্গে কে দেখা করতে এসেছে। দেখুন তো চিনতে পারেন কী না।’
সুনিয়ম হতভম্বের মতো একবার ওর দাদার দিকে একবার ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে দেখে। কিছুই মাথায় ঢোকে না ওর। ডাঃ বসুর কথায় সুসময় মাথা তুলে ভদ্র মহিলার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। কিছু যেন মনে করার চেষ্টা করে। ভদ্র মহিলা কাগজের টুকরোটা সুসময়ের হাতে ধরিয়ে দেয়। সুসময় বিড়বিড় করে পড়ে, ‘আ-আমি তোমাকে এ-এখনো ভা-ভা-ভালবাসি।’


ডাঃ বসু আর সুনিয়ম আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকে সুসময়ের দিকে। ভদ্রমহিলা তার হলুদ রঙের শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল লুকিয়ে ফেলেন। আজকে উনার কত কথাই না মনে পড়ে যাচ্ছে। বারবার কান্নার একটা করুণ সুর গলা দিয়ে বুদ্বুদের মতো উপচে পড়তে চাইছে আজকে।


সুসময়ের কাছ থেকে বেরিয়ে আসার পর ভদ্রমহিলা বলেন, ‘বত্রিশ বছর পরে আবার দেখা হল। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আমার মাকে দেখাবে, এই জেদেই খড়্গপুর থেকে ওর কাকার সঙ্গে মুম্বাই চলে এসেছিল। সেই যে এসেছিল আর ফেরেনি। চার বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে যা রোজগার করেছিল সেই সব নিয়েই বাড়ি ফিরছিল একদিন। ট্রেনে আগুন লেগে যাওয়ায় আর ফেরা হল না। আমি রাতদিন শুধু অপেক্ষা করেছিলাম চারবছর ধরে। তারপর ওর বাড়ি গিয়ে যখন শুনলাম…’ কান্নায় গলাটা ভারী হয়ে আসে ভদ্রমহিলার। একটু জল খেয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, ‘পুনর্জন্ম কথাটা জানতাম, বিশ্বাস করতাম না। আজকে সকালের ‘দৈনিক জাগরণ’ না দেখলে… এটাকেই হয়তো ভাগ্য বলে। নতুবা আমি ইতিহাসের অধ্যাপিকা হয়ে হিন্দি শিখতে যাব কেন! আসলে হিন্দি শেখার চেষ্টা না করলে দৈনিক জাগরণ পড়তেও যেতাম না আর সুদূর কলকাতায় বসে দাদর ষ্টেশনের এই ছোট্ট খবরটুকুও পেতাম না।’


তিন choti kahini vs Bengali story


এখনো ডাঃ বসু বা সুনিয়ম কারুরেই ঘোর কাটেনি। হয়তো কাটবেও না কোনদিন। ডাঃ বসু সুনিয়মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিশ্বাস করি বা নাই করি যেটা দেখলাম আর শুনলাম সেটাকে তো কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিতে পারি না। তবে এর পর আপনারা দুজনে ঠিক করুণ কী করবেন। আমার মনে হয় সুসময় বাবুর এই জন্মের স্মৃতি আর ফিরবে না। উনি সম্পূর্ণ আগের জন্মে ফিরে গেছেন তাই আমার পক্ষে উনাকে এখানে আটকে রাখা উচিত বলে মনে হয় না।’
‘একটা কথা জানার ছিল আপনার কাছে ?’ সুনিয়ম ভদ্রমহিলাকে বলেন।
‘হাঁ বলুন।’
‘আপনি কী কোনও সিঁদুর কৌটার ব্যাপারে কিছু জানেন ? দাদা যেদিন এক্সিডেন্ট হয় সেদিন ওর কাছে…’
কথাটা শেষ করার আগেই ভদ্রমহিলা বলেন, ‘হুম ঝিনুকের সিঁদুর কৌটা। আমিই একদিন কিনতে বলেছিলাম।’
‘তারমানে এক্সিডেন্টের আগেই দাদার পূর্বজন্মের স্মৃতি চলে এসেছিল।’
‘দেখুন মিঃ সরকার পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই হয় যার কোনও ব্যাখ্যা ডাক্তার বা বৈজ্ঞানিক দিতে পারে না। আপনার দাদার কেশটাও সেরকমই একটা।’
ভদ্রমহিলা কিছু একটা বলতেই যাচ্ছিলেন কিন্তু দরজায় চোখ পড়তেই দেখেল সুসময় ওরফে প্রতাপ দাঁড়িয়ে ওকেই দেখছে। ভদ্রমহিলা মৃদু হেসে প্রতাপকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমাকে চিনতে পারছ ?’
‘হাঁ পারছি তো। আমি কী নিশাকে ভুলতে পারি। তবে তুমি কেমন যেন বুড়িয়ে গেছ। আচ্ছা তুমি কী ভেবেছিলে আমি আর ফিরব না, তাই এখানে চলে এসেছ ? আমি তো ফিরছিলাম তোমার কাছে, কিন্তু ট্রেনে যে আগুন লেগে গেল।’
‘আর ট্রেনে আগুন লাগবে না।’
‘সত্যি বলছ ?’
‘সত্যি বলছি।’
‘আচ্ছা তাহলে আমার ব্যাগটা নিয়ে আসি দাঁড়াও।’ কথাটা বলেই সরল শিশুর মতো ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে যায় প্রতাপ। পায়ে পায়ে নিশাও বেরিয়ে আসে। ডাঃ বসু সুসময়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকেন। সুনিয়ম কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু আর বলতে পারল না। দাদাকে এখানে রাখতে ওর মন কোনদিনেই সাথ দেয়নি। এতদিন কিছু করারও ছিল না। আজকেও কিছু করার নেই। আর দাদা বলে ওর জীবনে কেউ রইল না কথাটা ভেবেই বুকটা কেমন যেন করে ওঠে সুনিয়মের। চোখের জলে ছেলেবেলার দিন গুলো ভেসে ওঠে বারবার। কিছুতেই বিশ্বাস হয় না ওর নিজের দাদা ওর কেও নয়। আসলে বিশ্বাস অবিশ্বাসের বাইরেও কিছু একটা থাকে সেটা দৈবিক বা ভৌতিক যাই হোক না কেন।
বাইরে ভীষণ মেঘ ধরেছে। বৃষ্টি হবে হয়তো। আজকে অনেক বছর পর হারানো মেঘ দেখে নিশার বয়সটা যেন কমে আসছে মন-ময়ূরীর সাথে পাল্লা দিয়ে। বাইরে ওয়েটিং রুমের একটা চেয়ারে বসে চোখদুটো বন্ধ করে নিশা, এই আশাতেই… যদি সেই বৃষ্টি ভেজা দিনটা আবার ফিরে আসে।
[সমাপ্ত]

আপনি কি choti kahini পড়েন? এর ভাল মন্দ জানেন তো?

প্রেমের উপন্যাস পড়ুন মন ভরে যাবে এখানে ক্লিক করুন

উন্নত মানের choti kahini পড়ুন

সেরার সেরা প্রেমের গল্প পড়ুন

Bengali shayari Bangla sms

This website uses cookies.

Read More