Bangla golpo kobita uponyas choti golpo bangla shayari sob ache ekhane. Bhuter golpo – বেগুনকোদর রহস্য যেখানে অনেক – Bengali website
X

Bhuter golpo – বেগুনকোদর রহস্য যেখানে অনেক

Bhuter golpo– অনেক পড়েছেন, কিন্তু এমন ভয়ংকর ভূতের গল্প চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি পড়েন নি। Bhuter golpo এর সঙ্গে যদি সাপ আর বেগুনকোদর স্টেশন মেশানো হয় ভাবতেও পারবেন না কী হতে পারে। কাঁপবে ভেতরটা

Bhuter golpo- বেগুনকোদর – রহস্য যেখানে অনেক

 
  • বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়
 
 
চিঠিটা বেশ কয়েকবার পড়েছি। তবুও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। হয়তো বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটাও কমে আসে মানুষের। এই চিঠিটাই বছর কয়েক আগে এলে সেদিনেই হয়তো সম্মতি সূচক উত্তর জানিয়ে দিতে পারতাম। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেটা আর হয়ে উঠে না। নিজের জন্য না হোক, পরিবারের জন্য ভাবতেই হয়। তাই চিঠিটার উত্তর লেখার আগে আরও একবার চিঠিটা চোখের সামনে মেলে ধরতে হল
 
 
‘‘প্রিয়,
  বিনোদ
আশা করি সবাই ভাল আছো। আমিও ভালই। তবে আজও মোবাইল নেওয়া হয়নি। আসলে মোবাইলকে হয়তো মনটা আর এই জন্মে মেনে নিতেই পারবে না। তাই চিঠিতেই আশ্রয় নিলাম। এবার কাজের কথায় আসি, কদিন আগে পুরুলিয়া জেলার এক স্টেশন সম্পর্কে শুনলাম। বেগুনকোদর স্টেশন। স্টেশনটার বেশ ভাল রকমের বদনাম আছে। বলতে পারো পৃথিবীর ভূতুড়ে স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যান্যতম এটা একটা। ১৯৬৭ সালে স্টেশনমাস্টার সস্ত্রীক খুন হওয়ার পর থেকেই নাকি এই স্টেশন ভূতুড়ে স্টেশনে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর এখানে আর কোনও ট্রেন দাঁড়াত না। স্টেশনমাস্টার বা রেল-কর্মচারী এলেও কেউ দ্বিতীয় রাত্রি এখানে থাকেনি। ২০০৯ সালে এই স্টেশন পুনরায় চালু হয়। চালু বলতে, ট্রেন থামত এই আরকি।
২০১৫ সাল থেকে সন্ধার পর আর ট্রেন থামে না। কোনও রেল কর্মীও সূর্যাস্তের পর থাকে না এখানে। স্টেশন থেকে বেগুনকোদর গ্রামটাও অনেকটাই দূরে। অনেকের ধারনা স্টেশনে চোরের উপদ্রব আছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না; যে স্টেশনে সন্ধার পর ট্রেন থামে না সেখানে বছরের পর বছর ধরে চোরের উপদ্রব থাকে কীভাবে! আমি ভাবছি কৌতূহল মেটানোর জন্য পরের মাসে একরাত্রি কাটিয়ে আসব। যদি সমস্যা না থাকে তুমি চাইলে আমার সঙ্গী হতে পারো। তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। মল্লিকা আর পুচকিটার জন্য আশীর্বাদ রইল। ভালবাসা নিও।       
  ইতি
রঞ্জন দা’’
 
 
চিঠিটার উত্তর দিতে গিয়ে প্রতিবারের মতো এবারেও কলমটাকে নামিয়ে রাখলাম। রঞ্জনদার সঙ্গে কাটানো এক একটা রাত্রির ছবি আজও চোখের পাতায় ভেসে ওঠে। ইচ্ছেগুলো যেন আবার আগের মতো ডানা মেলতে চায়। ‘একটা রাত্রির তো কথা, গেলে মন্দ হয় না।’ কতবার বুঝিয়েছি নিজেই নিজেকে…
 
 
[এক] Bhuter golpo
 
যতদূর দৃষ্টি যায় পড়ন্ত আলোয় ছোটবড় পাহাড় আর টিলাগুলি এলিয়ে পড়ে রয়েছে। শালিকের সঙ্গে আরও কয়েকটি পাখ-পাখাল দিনের শেষ আহারে মগ্ন। কখনো কখনো বা কিচিরমিচির করে দুএকটি দরকারি কথাও সেরে নিচ্ছে ওরা। দূরে পাহাড় আর টিলার ওপারে ট্রেনের মন-কেমন করা ঝিকঝিক সুর। স্টেশনের আশেপাশে কোথাও কোনও লোক নেই। দিগন্তরেখার সঙ্গে মিশে ঘরে ফিরছে একটা গরুর পাল। স্টেশনের অল্প দূরেই কয়েকটা ঘর, তবে কোনও লোক থাকে বলে মনে হয় না। একটা আঁকাবাঁকা মরামের রাস্তা পলাশ বনের ভেতর দিয়ে কোথায় গেছে কে জানে। আমি রঞ্জনদার পাশে বসে জায়গাটা নিয়ে আকাশকুসুম ভাবছি। রঞ্জনদা ডুবে আছেন কাগজ কলমের ভেতর। কী পড়ছেন আর কী লিখছেন উনিই জানেন। আমি জানতেও চাইনি। 
আর কিছুক্ষণের ভেতর দিনের শেষ ট্রেন থামবে এখানে। তারপর আর কোনও ট্রেন দাঁড়াবে না। স্টেশনটা আকারে খুবই ছোট। দুটো রুম, কয়েক হাতের বারান্দা। যাত্রী প্রতীক্ষার জন্য কোনও ছাউনি নেই। একটা টিউবওয়েল থাকলেও ওটা দিয়ে জল পড়বে বলে মনে হয় না। যদিও জল আর খাবার রঞ্জনদা পর্যাপ্ত পরিমাণ নিয়ে এসেছেন।
পেশায় আর নেশায় প্রাইভেট ডিটেকটিভ ছিলেন রঞ্জনদা। বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে বলে পৈতৃক সম্পত্তির অভাব নেই। বছর পনেরো আগে হাওড়া থেকে রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময় পরিচয় হয়েছিল উনার সঙ্গে। উনার বাড়িও গেছি বেশ কয়েকবার। আমার বিয়েতে না এলেও মেয়ের অন্নপ্রাশনের সময় আমার বাড়িও এসেছিলেন উনি। 
 
একবার এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ খুঁজতে প্রথমবারের জন্য সঙ্গী করেছিলেন আমাকে। প্রথমবারেই আশ্চর্য হয়েছিলাম উনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেখে। আমি কল্পনাও করতে পারিনি; যে ভদ্রলোক রঞ্জনদাকে সাহায্যের জন্য ডেকেছিলেন, খুনি উনি নিজেই। বিধবা শাশুড়িকে সরিয়ে পুরো সম্পত্তির মালিক হওয়ার লোভে খুনটা করেছিলেন সেই ভদ্রলোক। আবার স্ত্রীর চোখে সাধু সাজার জন্যেই ডেকেছিলেন রঞ্জনদাকে। ভদ্রলোক পারেননি রঞ্জনদার চোখে ধুলো দিতে। রঞ্জনদার সঙ্গে দ্বিতীয়বার সঙ্গী হয়েছিলাম উত্তরবঙ্গের চিলাপাতা ফরেস্ট। ওখানের ঘটনাও ছিল অদ্ভুত। চিতার নামে মানুষের হাতেই উজাড় হচ্ছিল একটা গ্রাম। এরপর আরও অনেক অনেক জায়গায় গেছি উনার সঙ্গে। ঘাটশিলা, ঝাড়গ্রাম, চাকুলিয়া, তেনুঘাট, কাঁথি, বারাসাত আরও বেশ কয়েকটা জায়গায়। বিয়ের পর মল্লিকাকে একলা ফেলে আর তেমন যাওয়া হয়ে উঠে না। টিকলি হওয়ার আগে-আগে মল্লিকা যখন বাপের বাড়িতে ছিল সেই তখনই শেষবার গিয়েছিলাম।
 
হঠাৎ ট্রেনের আওয়াজ পেতে চমক ভাঙল আমার। এতক্ষণ যেন অতীত স্মৃতির বুদ্বুদে ঝিমচ্ছিলাম। পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ডোবার জন্য প্রস্তুত। পাখিগুলোও জানি না কখন ফিরে গেছে। পুরো স্টেশনটা শুনশান। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দটুকু বাদ দিলে সর্বগ্রাসী শূন্যতা দাঁড়িয়ে থাকবে এখানে। রঞ্জনদাকে সম্মতি দেওয়ার আগে ইন্টারনেটে বেশ ভাল করে পড়েছি জায়গাটা সম্পর্কে। সত্যিই বেশ বদনাম আছে স্টেশনটার। লোকে স্টেশনটাকে ভূতুড়ে স্টেশন হিসেবেই ধরে নিয়েছে। গ্রামটাও দূরে বলেই হয়তো এখান থেকে লোক ওঠা নামা করে না।
 
ট্রেনটা স্টেশনে ঢোকার আগেই রঞ্জনদা আমার ডান হাতটা ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘চল ওদিকটায় গিয়ে দাঁড়াই। এখানে বসে থাকতে দেখলে লোকে সন্দেহ করবে।’ মুখে কিছুই বললাম না, কিন্তু লোকের সন্দেহ করার কারণ মাথায় ঢুকল না আমার।
 
নিজের অনিচ্ছাতেই যেন দাঁড়াল ট্রেনটা। কয়েক সেকেন্ড পর আবার চলতে শুরু করল নিজের খেয়ালে। আমরা আসার আগে থেকেই স্টেশনে কেউ নেই। তাই লাল বা সবুজ পতাকা দেখানোর জন্য বেরিয়ে এলো না কেউই। তবে আমি ভেবেছিলাম এখানে হয়তো কেউ নামবেও না। কিন্তু দেখলাম দুজন যাত্রী ট্রেন থেকে নেমেই হাঁটা লাগাল নিজেদের পথে। একজন চলতে লাগল মরামের রাস্তা দিয়ে। অন্যজন হারিয়ে গেল পলাশ জঙ্গলের ভেতর। আমরা আরও কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আগের জায়গায় ফিরে এলাম। 
 
[দুই] Bhuter golpo
 
রঞ্জনদা হঠাৎ এই স্টেশনে কেন এসেছেন আমার জানা নেই। উনি কোনও কিছুই আগাম জানান না। অহেতুক কৌতূহলও উনার পছন্দের বাইরে। সময়ে নিজেই সব বলেন। আমি এটুকু জানি, ভূতপ্রেতে উনার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। তাই ভূতপ্রেতের সন্ধানে যে উনি আসেননি সেটা কিন্তু পরিষ্কার। তবে লাস্ট মেল ট্রেনটা পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে রঞ্জনদার মুখটা যেন মাত্রাতিরিক্ত থমথমে হয়ে আছে। উনাকে কোনও কিছুই জিজ্ঞেস করার উপায় নেই। উনি যতক্ষণ না সব বলছেন ততক্ষণ অপেক্ষা করতেই হবে। 
 
রাতের আহার যখন সারলাম তখন আটটা পেরিয়ে গেছে। সাড়ে সাতটা নাগাদ আমার কেন যেন একবার মনে হয়েছিল স্টেশন ঘরটার কাছে কারা যেন ফিসফিস করছে। যদিও চোখে পড়েনি কিছুই। পরে আর কিছু শুনতেও পাইনি। এখন দূরের টিলা-পাহাড় আর জঙ্গল থেকে শেয়ালের ডাক ভেসে আসছে। ঝালদা স্টেশনের মাইকিং ভেসে আসছে মাঝে-মাঝে। ইতি মধ্যেই দুটো দ্রুতগামী ট্রেন পেরিয়েছে এই লাইন দিয়ে। দাঁড়ায়নি একটাও। 
‘এখানে কেন এসেছি বলতে পারবি ?’ জিজ্ঞেস করলেন রঞ্জনদা। সত্যি বলতে আমিও এই প্রশ্নটার অপেক্ষা করছিলাম।
‘স্টেশনটা শুনলাম ভূতুড়ে কিন্তু তুমি তো ওসবে বিশ্বাস করো না। আবার সখের গোয়েন্দাগিরিও তো ছেড়ে দিয়েছ বলেছিলে। তাই হঠাৎ এখানে কেন সেটাই তো বুঝতে পারছি না।’
 
একটু যেন হাসার চেষ্টা করলেন রঞ্জনদা, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও সেই ধান ভানে। কয়েক বছর ছেড়েই দিয়েছিলাম সব। কিন্তু ছেড়ে থাকতে পারলাম কই ? টিকটিকির পোকা ছাড়া চলে না। এখানেও এসেছি একটা পোকার খোঁজে। আর রইল স্টেশনের ভূতুড়ে গল্প…’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘আসলে জানিস; ভূতে আমার বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কোনটাই নেই। ওদের লাইন আলাদা, আমার লাইন আলাদা।’ 
 
‘তুমি পারও বটে। এই বয়সে দাঁড়িয়ে চোর-ছ্যাঁচড় খুনির পিছনে টিকটিক করাটা মুখের কথা নয়। অনেকদিন তো এসব করেই কাটালে, শেষ বয়সটা না হয় একটু বিশ্রাম নিয়ে কাটাতে তো পারো।’
 
‘বয়সটা বিষয় নয় এখানে। ওটা শরীরের ব্যাপার। মনটাই তো বিশ্রাম চাইছে না। এবার তুই নিজেই বল, মন ছুটে বেড়ালে শরীর দাঁড়িয়ে থাকে কেমন করে ? তাই বাধ্য হয়ে ছুটছি। এবার সেই এক্কেবারেই বিশ্রাম নেবো ভেবেছি।’
‘ভগবান জানে কোনদিন কোথায় কার হাতে খুন হয়ে পড়ে থাকবে। কেউ লাশটুকুও খুঁজে পাবে না।’
 
‘অতটা আনন্দের মরণ হবে না জানি। সেই সৌভাগ্য আমার কোথায় ? সিংহের মৃত্যুর চেয়ে শেয়ালের মৃত্যু অনেক সম্মানের। সিংহ তো পরিবার হারিয়ে একলা ধুঁকতে ধুঁকতে মরে। শেয়ালের সেই দিন আসে না।’
 
 
 
[তিন] Bhuter golpo 2019
 
এখন ঘড়ির কাঁটায় নটা দশ। বড়-বড় গাছগুলোর মাথায় জোনাকির মেলা। আকাশে এক টুকরো চাঁদ ভাসছে। দূরের জঙ্গল থেকে ভেসে আসছে শেয়ালের করুণ সুর। বহুদূরে কোথাও ট্রাকের আওয়াজ। শুধুমাত্র বেগুনকোদর স্টেশন এখন অন্ধকারে ভূতের মতো একা দাঁড়িয়ে। কোনও রাতচোরা পাখির সুর পর্যন্ত কানে আসছে না। চাপচাপ অন্ধকারে গুমোট হয়ে আছে এলাকাটা।
 
‘এখানে এসেছি একজনের খোঁজে…’ কথাটা অসম্পূর্ণ রেখে একটা সিগারেট ধরালেন রঞ্জনদা, ‘একটা ছেলের খোঁজে।’
‘সেটা তো বুঝতেই পারছি যে তুমি কারু খোঁজে এখানে এসেছ। হাওয়া খেতে আসার লোক যে তুমি নও সেটা আর কেউ না জানুক আমি জানি। তা কার খোঁজে এসেছ ?’
‘মহেন্দ্র। আমাদের পাশের গ্রামের ছেলে। পড়াশুনায় খুব ভালছিল ছেলেটা। পয়সার অভাবে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েই বাপের কাজটাকেই জীবিকা করে নিল। সাপধরা, সাপের খেলা দেখানো। কোনক্রমে ঠেলতে ঠেলতে চলছিল ওদের সংসারটা। হঠাৎ একদিন শুনলাম ও নাকি লটারি পেয়েছে। শুনে খুশি হয়েছিলাম। নতুন বাড়ি বানাল। গাড়ি কিনল। ঘরের সামনেই একটা গোলদারি দোকান খুলে বসল। সব ঠিকই ছিল। সন্দেহ হল, যখন শুনলাও ও দোকান বন্ধ রেখে প্রায় নিয়মিত শহরে যায়…’
 
‘এতে সন্দেহের কি আছে ?’ রঞ্জনদাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
 
‘আসলে জানিস তো হঠাৎ করে বড়লোক হওয়া মানুষ কাকের ছানা পোষে। তাই প্রথমটায় ভেবেছিলাম মহেন্দ্রও হয়তো টাকা ওড়াতে যায়। পরে জানলাম ওড়াতে নয় টাকা কুড়োতেই যায় ও।’
 
‘বুঝলাম না।’
 
‘মানুষকে একবার যদি বড়লোক হওয়ার নেশায় ধরে তো আর নিস্তার নেই। টাকা এমন একটা নেশা যেটাকে কোনও কিছু দিয়েই ছাড়ানো যায় না। হঠাৎ একদিন মহেন্দ্রের বাড়িতে পুলিশ এলো।’
 
‘কেন ?’
 
‘জানি না কীভাবে মহেন্দ্র একটা চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। সাপ আর সাপের বিষ পাচার করত ও।’
‘তাতে তো আর বিরাট কিছু লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না।’
 
‘তোর হয়তো ধারনা নেই, সাপের বিষ বিদেশে কেমন দামে বিক্রি হয়। কোরিয়া, জাপান, চিন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশ কেবল মাত্র খাদ্য হিসেবেই ভারতের কোবরা চড়া দামে কেনে। আমরা বাঙালীরা বাংলাদেশে গরু পাচার পর্যন্তই ভাবতে পারি। খুব বেশি ভেবে বসলে বাঘের নখ দাঁত আর চামড়া। আরও কত কিছুই যে প্রতিদিন পাচার হয় কেই বা তার খবর রাখে। দেশিয় কোবরা সাপের একগ্রাম বিষ কমসেকম হাজার ডলারে বিক্রি হয়। সাপের বয়স ভেদে এই দাম বাড়া কমা করে। এক আউন্স সাপের বিষ হাসতে হাসতে এক কোটি টাকায় বিকিয়ে যায়।’
 
‘বাপরে! এত দাম! ছেলেটা ধরা পড়েছিল ?’
 
‘না। আগেই হয়তো খবর পেয়েছিল। পুলিশ আসার আগেই ফেরার। তারপর আর ভুল করেও গ্রামে ফেরেনি। কয়েকমাস আগে এক বন্ধুর মুখে শুনলাম ওকে নাকি এখানে দেখেছে। এই জায়গাটার যা বদনাম আছে তাতে ওর জন্য এলাকাটা কিন্তু বেশ নিরাপদ। এখানে সাপের অভাব কিংবা পুলিশের ভয় কোনটাই নেই।’
 
‘তা ওকে খুঁজবে কেমন করে ? তাছাড়া ও বা ওর দলবল যে আমাদেরকে আক্রমণ করবে না তারই বা নিশ্চয়তা কোথায় ?’
 
‘নিশ্চয়তা নেই ঠিকই। তবুও ভরসার কথা এই যে, কোনও এককালে ও আমার স্টুডেন্ট ছিল।’
 
‘স্টুডেন্ট ?’ হতবাক হয়েই আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো কথাটা। 
 
‘হ্যাঁ ক্লাস এইট আর নাইন আমি ওকে অঙ্ক-ইংরেজি পড়িয়েছিলাম।’
 
‘ওকে খুঁজবে কেমন করে ?’
 
‘লাস্ট লোকালে যে দুজন নামল ওদেরেই একজন মহেন্দ্র।’
 
‘ওই যে লোকটা পলাশ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কোথায় হারিয়ে গেল ওই লোকটা ?’
 
‘ইয়েস। ওর খোঁজেই এখানে আসা।’
 
‘আচ্ছা ধরেই নিলাম ওকে খুঁজে পেয়ে গেলে। তারপর কী করবে ?’
 
‘আমি শুধু এটা দেখে যাব ও ঠিক কোথায় ঘাটি গেড়েছে আর কী কী করছে। তারপর যা করার পুলিশ করবে।’
 
[চার] Bhutergolpo
 
টর্চ না জ্বেলে মরা জ্যোৎস্নাকে সঙ্গী করেই পলাশ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটছি আমরা দুজন। স্টেশনে বসে থাকার সময় একটা ঘটনায় দুজনই বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। রাত্রি বারটা বাজতেই হঠাৎ ঢং-ঢং শব্দে বেজে উঠল স্টেশনের একটা ঘড়ি। এই ঘড়ির শব্দ এখনকার স্টেশনে আর শোনা যায় না। আমি অন্তত শুনিনি। এর পরই শুনলাম নারীপুরুষ মিলিত কণ্ঠের মৃদু কান্নার শব্দ। মনে হল স্টেশনটার যেন ঘুম ভাঙছে এতক্ষণে। রঞ্জনদা কী বুঝলেন জানি না, দ্রুত আমার হাত ধরে টেনে তুলে বললেন, ‘এই স্টেশনে আর থাকা যাবে না। চল এবার মহেন্দ্রের খোঁজে বেরনো যাক।’
 
আমরা ঠিক কোথায় যাচ্ছি জানি না। যতদূর চোখ যায় অন্ধকার বন, পাহাড় আর টিলা ছাড়া কিছুই নেই। যেন নিঃশব্দতার চাদর মুড়ে পড়ে রয়েছে পুরো এলাকাটা। এখন কানে শেয়ালের সুরটুকুও আর আসছে না। শব্দ বলতে আমাদের নিঃশ্বাস আর পায়ের খশ-খশ আওয়াজ। আমরা কেউ কথাও বলছি না একে অপরের সঙ্গে। প্রতিমুহূর্তে আমার ভয় বলছে আমার পিছনে কে বা কারা যেন আসছে। ওদের পায়ের কোনও শব্দ নেই।
 
প্রায় আধঘণ্টার মতো হাঁটার পর রঞ্জনদা বললেন, ‘কোথাও কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না। এদিকেই তো নামতে দেখেছিলাম ওকে।’
 
‘আচ্ছা আমাদেরকে দেখতে পেয়ে ইচ্ছে করেই এদিকে নামেনি তো ও ? হতেও তো পারে তোমাকে ও দেখে ফেলেছিল। আর তাই কেবলমাত্র বিভ্রান্ত করার জন্য এদিকে হাঁটা শুরু করেছিল।’
 
‘হতেই পারে। না হওয়ার কিছু… এক মিনিট, ওই ওদিকটায় তাকা…’ রঞ্জনদা আঙুল বাড়িয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করলেন। ‘ওটা একটা বাড়ি মনে হচ্ছে না ?’ জিজ্ঞেস করলেন আমাকে।
 
‘সিওর নই কিন্তু বাড়ির মতোই তো মনে হচ্ছে।’ বললাম।
আবার চলতে শুরু করলাম আমরা। এবার বেশ উত্তেজিত লাগছে নিজেকেও। যত সামনে এগিয়ে আসছি ততই মনে হচ্ছে ওটা একটা বাড়ি। একতলা বাড়ি।
 
এতক্ষণে বাড়িটার বেশ কাছাকাছি এসে পড়েছি আমরা। আর মাত্র মিটার পঞ্চাশ। খুব সাবধানে পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি বা রঞ্জনদা কেউই চাই না ও আমাদের আগমন টের পাক। বাড়িটার খুব কাছে এসে একটা গাছের নীচে লুকিয়ে দাঁড়ালাম দুজনে। মরা জ্যোৎস্নাতেও এখান থেকে বাড়িটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। বাড়ির বাইরের দেওয়ালে আড়াআড়ি ভাবে লাগানো সোলারটা জ্বলজ্বল করছে পাতলা জ্যোৎস্নায়। বাড়িটার জানালা কপাট বন্ধ। আমরা আরও কিছুটা এগিয়ে এলাম।
 
বাড়িটার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যা দেখলাম তাতে অবাকের চাইতেও হতাশ হলাম বেশি। বুঝতে পারলাম বাড়ির ভেতরে কেউ নেই। কপাটটা বাইরে থেকে লক করা রয়েছে। চাবি দেওয়া নেই। 
 
‘পালিয়ে গেছে…’ বেশ হতাশ হয়েই কথাটা বললেন রঞ্জনদা। তারপর ব্যাগের ভেতর থেকে টর্চ বের করে দরজার লকটা খুলে আলো জ্বেলে ভেতরে ঢুকলেন। হ্যাঁ, সত্যিই বাড়িতে কেউ নেই। তবে কোনও আনাড়ি লোকও বাড়িটায় ঢুকলে বুঝতে পারত মিনিট কয়েক আগেও কেউ এখানে ছিল। বাড়ির ভেতর সিগারেটের গন্ধ ভুরভুর করছে। সেই লাস্ট ট্রেনে ফেরার জামা-প্যান্টটা এখনো পড়ে আছে বিছানায়।
 
আমরা দুজনের কেউই এতক্ষণ বাড়িটার দেয়ালগুলোর দিকে তাকাইনি। তাকাতেই ভয়ে ভির্মি খাওয়ার জোগাড়। বাড়ির দুটো দেওয়াল সাঁটিয়ে কাঁচের সোকেশ বসানো। তাতে সাজানো রয়েছে নানান সাইজের কয়েকশ সাপের ঝাঁপি। আমার বিশ্বাস প্রতিটাতেই সাপ আছে। রঞ্জনদা বাড়ির মেঝেতে ভাল করে আলো বুলিয়ে দেখে নিলেন কোথাও কোনও সাপ খোলা হাওয়ায় ঘুরছে কি না। এরপর চোখ পড়ল ছোট মাপের কুলারের মতো সাদা দুটো বক্সের উপর। ঘরের কোনায় রাখা রয়েছে বক্স দুটো। রঞ্জনদার সঙ্গে আমিও এগিয়ে গেলাম। ঠিক যেন ছোট মাপের ফ্রিজ। রঞ্জনদা আলতো করে টানতেই খুলে গেল একটার দরজাটা। যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই। কাঁচের ছোট-ছোট পাত্রে রাখা রয়েছে মধু রঙের বিষ। কয়েকটা পাত্রের বিষের রঙ গাড় হলুদ।
 
দ্বিতীয় ফ্রিজটা খুলেই কয়েক পা ছিটকে পিছিয়ে এলেন রঞ্জনদা। আমাকে সাবধান করে বললেন, ‘কাছে যাস না অসময়ের শীতঘুমে রয়েছে ওরা।’ দূরেই দাঁড়িয়ে রইলাম। কুণ্ডলী পাকিয়ে চার চারটা সাপ একসঙ্গে রয়েছে। চারটাই কিং-কোবরা। টর্চের আলো পড়ে ওদের কালো শরীর আর মনির মতো চোখ জ্বলজ্বল করছে। আমি এই প্রথমবার কিং-কোবরা এত সামনে থেকে দেখছি। ওদের ঘুম ভাঙলে আমরা দুজনই চিরদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ব।
 
‘এগুলো বেঁচে আছে তাই না?’ ভয়ে ভয়েই জিজ্ঞেস করলাম। 
 
‘হ্যাঁ চারটাই বেঁচে আছে। এটা ফ্রিজ নয়। এটা শীততাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যকোনও যন্ত্র। বেশ আরামে রয়েছে ওরা।’ কথাটা বলেই রঞ্জনদা দূর থেকে পায়ে করে দরজাটা বন্ধ করতে গিয়ে মেঝের মার্বেল পাথরে স্লিপ করে পড়লেন। রঞ্জনদা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কয়েকটা সাপ যেন কোত্থেকে একসঙ্গে ফোঁস করে উঠল। পরের মুহূর্তেই খেয়াল করলাম, রঞ্জনদার বুকের সামনে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুধসাদা একটা গোখরো। রাগে গর্জন করছে সাপটা।
 
বেশ কয়েক মিনিট রঞ্জনদা মেঝেতেই পাথরের মতো পড়ে রইলেন। হাতের টর্চটা ছিটকে গড়িয়ে গিয়ে ওই ফ্রিজের মতো যন্ত্রটার পায়াতে আঁটকে আছে। জ্বলছে। রঞ্জনদা ভাল মতোই জানেন নড়লেই ছোবল। একটা সময় সাপটা মাথা নামিয়ে কাঠের তক্তাটার নীচে ঢুকে গেল। সাপটা ঢুকে যাওয়ার পর রঞ্জনদা টর্চটা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রায় চিৎকার করে আমাকে বললেন, ‘জলদি বেরিয়ে চল এঘর থেকে। তক্তাটার নীচে অনেকগুলো সাপকে ডিমে বসানো রয়েছে। ওদের সামনে পড়লে বাঁচার আশা কম।’
 
[পাঁচ] Bhuter golpo
 
ভোরের দিকে রঞ্জনদা ডাইরি খুলে আমার মোবাইল নিয়ে দুটো কল করলেন। হয়তো কোনও বন্ধু পুলিশ অফিসারকে হবেন। আমরা এখন স্টেশনের দিকে ফিরছি। ভোরের আকাশটা লাল হয়ে আসছে। ঘুম ভাঙছে সবুজ টিলা আর পাহাড়গুলোর। নাম না জানা এক ঝাঁক পাখি ঘুম থেকে উঠেই শিস দিচ্ছে মহুয়া গাছের ডালে বসে। কয়েকটা ফিঙে উড়ছে নিজের খেয়ালে। দূরে কোথাও ডাকছে বনমোরগ। এই ভোরের রূপ দেখলে রাতের রূপটা আর কল্পনাতেও আসবে না। 
 
আমরা স্টেশনে পৌঁছনর আগেই দুটো পাহাড়ের খাঁজে শৈশবে আঁকা ছবির মতো সূর্য উঠল। রঞ্জনদার কথা মতো একটা টিলার উপর চড়লাম। রঞ্জনদা আঙুল বাড়িয়ে সুবর্ণরেখা নদীটা দেখালেন। পূবের সোনালি আলোয় ধারালো অস্ত্রের মতো ঝিলমিল করছে সুবর্ণরেখা। আরও দূরে ঘুম ভাঙছে ঝালদা শহরের।
 
আমরা যখন স্টেশনে এসে পৌঁছলাম তখন সকাল হয়েছে। রঞ্জনদার কথা মতো জনা দশেক পুলিশ হাজির হয়েছে স্টেশনে। ওই জনা দশেক পুলিশ ছাড়া আর কোনও মানুষ চোখে পড়ল না। গত রাতের ঘটনাটা মনে পড়তেই আমি কয়েক পা এগিয়ে এসে স্টেশন ঘরটার দিকে তাকিয়ে দেওয়াল ঘড়িটা খোঁজার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোথাও কিছুই নেই।
 
‘বিনোদ এদিকে একবার আয়…’ রঞ্জনদার ডাক পড়তেই ঘড়ি খোঁজা ছেড়ে আসতে হল আমাকে।
 
পুলিশ অফিসারের সঙ্গে রঞ্জনদা পরিচয় করিয়ে দিলেন, ‘ইনি বিনোদ। বিনোদ গাঙ্গুলি। বিনোদ ইনি আমার বন্ধু সুকান্ত মাহাত।’ দুজনেই দুজনকে নমস্কার জানালাম।
‘আচ্ছা বিনোদ বাবু আপনি কি মহেন্দ্রকে গতকাল দেখেছেন ?’ আলাপ সেরেই সরাসরি প্রশ্ন করলেন অফিসার।
 
‘গতকাল বিকেল-সন্ধায় লাস্ট লোকালে দুজন ভদ্রলোককে ট্রেন থেকে নামতে দেখেছিলাম। যে ভদ্রলোক ট্রেন থেকে নেমে পলাশ জঙ্গলে গা-ঢাকা দিলেন উনিই নাকি মহেন্দ্র। আমি চিনি না রঞ্জনদা বললেন। তবে উনার বাড়িতে গিয়ে উনাকে দেখতে পাইনি। আমরা পৌঁছানোর দু-এক মিনিট আগেই হয়তো উনি পালিয়েছিলেন।’
 
‘কিন্তু এটা কেমন করে সম্ভব হয় বলুন তো ? যে মানুষটা… আই থিংক আপনাদের কোথাও একটা মিস্টেক হচ্ছে।’
 
‘দেখুন আমি তো উনাকে চিনি না। তবে রঞ্জনদার ভুল হওয়ার কথা নয়। এক সময় ওই ভদ্রলোককে রঞ্জনদা পড়িয়েছেন। তবে হ্যাঁ আগেই তো বললাম ওই বাড়িতে গিয়ে কারুর দেখা পাইনি। পুরো ঘর সাপে ভর্তি। সাপের বিষও আছে প্রচুর।’
 
‘হোয়াট!’ ভদ্রলোক কয়েক সেকেন্ড যেন কিছু চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ‘যদি খুবই ক্লান্ত না থাকেন তাহলে আমাদের সঙ্গে আরেকবার চলুন প্লিজ।’
 
আমার আর না বলার উপায় নেই। তাছাড়া কাল রাতে যা দেখেছি তাতে করে বিষয়টা পুলিশের জানা উচিৎ। ওই লোকটাকে পাওয়া যাক বা নাই যাক সাপের বিষ আর সাপগুলো উদ্ধার হলেও অনেক।
 
আবার শুরু হল পলাশ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি পথে চলা। শরীর ক্লান্ত থাকলেও গত রাতের মতো কষ্ট হচ্ছে না। দিনের আলোয় বেশ দ্রুত হাঁটতে পারছি। মিনিট চল্লিশের ভেতরই চোখে পড়ল বাড়িটা। বাড়িটা দেখতে পেয়ে পায়ের গতি যেন আরও বাড়ল। কিন্তু বাড়িটার কাছে এসে যা দেখলাম সেটা বর্ণনাতীত। এক বারের জন্যেও মনে হল না এই বাড়িটাই সেই বাড়িটা। অথচ এটাই সেই বাড়ি। দেখেই বুঝতে পারলাম এই বাড়িতে দীর্ঘদিন কেউ থাকে না। বাড়ির দরজা জানালা সবেই ঘুণে পোকার দখলে। বাড়ির ভেতরটা আরও জীর্ণ। চারদিকে ধুলোবালি আর মাকড়শার জাল। দেওয়ালের সেই সোকেশগুলো আছে ঠিকই কিন্তু ওতে কোনও সাপের ঝাঁপি নেই। নেই সেই আধুনিক ফ্রিজ দুটোও। আমি অবাক হয়ে রঞ্জনদার মুখের দিকে চাইলাম। রঞ্জনদার মুখের অবস্থা বর্ষার মেঘের মতো।
 
‘রঞ্জন আমি তোর মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। অন্যকেউ হলে হয়তো তোদের দুজনকেই পাগল ভাবত। কিন্তু তুই যা যা বলেছিস ঠিক তাই ছিল এখানে। তবে সেটা দুবছর আগে। ওই ছেলেটা সাপের ছোবলেই হয়তো মরেছিল। তবে আমরা লাশ পাইনি, একটা পচা মাংসে মোড়া কঙ্কাল পেয়েছিলাম। যে সাপগুলো পেয়েছিলাম তাদের কয়েকটাই মাত্র বেঁচেছিল। সোলার চালিত যন্ত্রের ভেতর ছিল বলেই বিষগুলো নষ্ট হয়নি।’
 
‘কিন্তু বিশ্বাস কর আমার এক বন্ধুও কয়েকমাস আগে ওকে এই স্টেশনেই দেখেছিল। তাছাড়া কালকে রাতে আমি একা নই আমরা দুজনে যা দেখলাম…’
 
‘আমি জানি দুশ জনেও তাই দেখত। হয়তো আজকে রাতে এলেও তাই দেখবে। তুই ভুলে যাচ্ছিস কেন এটা বেগুনকোদর। আর পাঁচটা এলাকার সঙ্গে এখানের তুলনা চলে না। তবে একজন বন্ধু হিসেবে বলব, এটা একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যা। পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই আছে যার কোনও ব্যাখ্যা নেই। বিজ্ঞানের কাছেও যার উত্তর নেই। থ্যাংকস গড যে তোদের দুজনের কোনও ক্ষতি হয়নি।’
 
ঘরটার আশেপাশে এক ঘণ্টার মতো ঘুরে যখন কিছুই চোখে পড়ল না তখন আমরা স্টেশনের দিকে ফিরতে লাগলাম। রঞ্জনদা সবার পিছনে। উনার মুখের প্রতিটা রেখায় হাজার হাজার জিজ্ঞাসা চিহ্ন। জানি না রঞ্জনদা নিজেই নিজের মনকে এই ঘটনাটার কী ব্যাখ্যা দেবেন। তবে কেন যেন আমার মন বলছে এই স্টেশনে এলে আবার ওই মহেন্দ্রকে লাস্ট লোকালে নামতে দেখতে পাব। শুনতে পাব সেই ঘড়ির ঢং-ঢং শব্দ আর নারীপুরুষ মিলিত কণ্ঠের কান্নার আওয়াজ। হয়তো প্রতিটা সন্ধায় মহেন্দ্র ওই বাড়িতে ফেরে। বাড়ি আর বাড়ির সাপগুলোও জেগে ওঠে মহেন্দ্রের আগমনে। চলতে চলতে আমি পিছন ফিরে বাড়িটাকে শেষবার দেখার চেষ্টা করলাম। পলাশ জঙ্গলের ভিড়ে বাড়িটা আর চোখে পড়ল না। 
 
[সমাপ্ত]
আরও পড়ুনঃ-
 
 
 
 

Bhuter golpo

পড়ুন আদি রসাত্মক গল্প (কোঠোর ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

ভূতের গল্প

Bhuter golpo বাংলা সাহিত্যে কম লেখা হয় নি। কিন্তু হাড় কাঁপানো Bhuter golpo সবাই লিখতে পারে না। যারা best bhuter golpo লিখতে পারেন তাদের উচিৎ সময় নিয়ে পাঠক মহলের হাতে সেরার সেরা Bhuter golpo উপহার দেওয়া। তেমন Bhuter golpo লিখে কোনও লাভ নেই যেখানে Bhuter golpo লিখে ভূতকে মিথ্যে প্রমাণ করা হয়। Bhuter golpo লেখার সময় ভূতের অস্তিত্ব আছে ধরে নিয়েই লেখা উচিৎ। তাহলে Bhuter golpo টা যথাযথ Bhuter golpo হয়ে ওঠে। উপরের লিংকে আরও কিছু ভাল রহস্য রোমাঞ্চ ভৌতিক গল্পের লিংক দিলাম।

This website uses cookies.

Read More