Bengali short story or Bangla choto golpo

Bengali short story or Bangla choto golpo

All About Bangla golpo

Bangla golpo নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল৷ লেখাটি ভাল লাগলে সেয়ার করবেন৷   

What is bengali short story ?

Or

Bangla choto golpo kake bole ?

Rabindranath Thakur বলেছিলেন,-

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা, ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্ত সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি 
তারি দু-চারটি অশ্রু জল। 
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা, 
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ। 
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে 
শেষ হয়ে হইল না শেষ। 
জগতের শত শত অসমাপ্ত কথা যত, 
অকালের বিচ্ছিন্ন মুকুল, 
অকালের জীবনগুলো, অখ্যাত কীর্তির ধুলা, 
কত ভাব, কত ভয় ভুল- 

Bangla golpo

ধরুন এক অন্ধকার ঘরে অনেক লোক বসে আছেন। কেউ হাসি মুখে কারু বা মুখে দুঃখের ভার। বিশেষ কোনও মুখে আলো ফেলা হলে সেটা হবে Choto Golpo. আর ঘরের আলো অন করা হলে সেটা হবে Uponyas.

ছোটগল্পে এক জীবনের  হাসি কান্না সরল রেখায় প্রবাহিত হয়। বেশি চরিত্র বা ঘটনার জাল থাকে না। উপন্যাস ঠিক উল্টো। বহু জীবন বহু ঘটনা।  

Bangla golpo:- past and present

বাংলা ছোটগল্পের একাল ও সেকাল বড় অদ্ভুত। এখন ছোটগল্পের পাঠক কমতে কমতে হাতেগোনা অবস্থায় দাঁড়িয়ে।  অথচ Bangla choti golpo এর পাঠক বাড়ছে হু হু করে। 

অনেকেই বিষয়টা মেনে নিতে পারেন না। স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ জানতেও চান না  why Bengali short story lost his respect.

হ্যাঁ Bangla Choto golpo নিজের সম্মান হারিয়েছে। লেখক প্রকাশকের কথা মতো সাপ বাঘের গল্প লিখে যান, উনারা জানতেও চান না যে পাঠক কী চায়। উনাদের কাছে পাঠক মানে ফেসবুকের আহা উহু করা কছু পাব্লিক মাত্র। লেখকদের এই কুয়োর ব্যাঙ মানসিকতার জন্যই আজ বাংলা গল্পের এই দশা।

আগামীদিনে বাংলা গল্পের ভবিষ্যৎ আরও কিছুটা খারাপ হবে। 

তাই বলে কী মানুষ পড়ে না? এক্কেবারেই তা নয়। লাখ লাখ মানুষ গল্প পড়েন। হ্যাঁ বেশির ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক গল্প। তাতে আমি অন্তত দোষের কিছুই দেখি না। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ যেমন বদলায় তেমনই চাহিদাও বদলায়। এখন সময় শরীর শরীর, এখন প্রেমেকামে এক ঘরে বাস। তাহলে গল্প কেন উত্তেজক হবে না ? 

কামেপ্রেমে মিশিয়েও ভাল গল্প লেখা যায়। আজ বট গাছের আত্মকথা পড়ার সময় নেই লোকের। যার যতটুকু বাঁচার সময় জোটে সে ততটুকুই আনন্দ পেয়ে বাঁচতে চায়। 

সেকালের লেখকরা পাঠকের চাহিদা মিটিয়েছিলেন, তখন যেমন চাহিদাছিল সেই অনুযায়ী। আজ লেখক নিজের কলমের গুঁতোতে পাঠকের বুক ভাঙতে চায়। এটা বোঝে না যে সেকাল আর একাল এক নয় । 

একটু উষ্ণতার জন্য দিয়ে যদি বলি শুরু তাহলে ভাবুন আজ এতবছর পরের পাঠকের দাবী কী হতে পারে !   

Future of Bangla golpo

এই প্রশ্ন সবার মনেই কমবেশি ঘোরে, বিশেষ করে লেখকের মনে৷ বাংলা গল্প টিকবে তো ?  

আমার উত্তর আলবাত টিকবে। পাঠক বহুগুণ বেড়েছে, আপনি খোঁজ রাখেন নি। আপনার ওই ফেবু বাবু বিবি রাই একমাত্র বাংলার পাঠক পাঠিকা নন, এটা বোঝার চেষ্টা করুন৷ 

আজকে ইন্টারনেটে লাখ লাখ ছেলে মেয়ে বাংলা গল্প পড়ে। হতে পারে তারা বাজে গল্প পড়ে। কিংবা তারাই ঠিক গল্প পড়ে আমরা বাজে গল্প লিখি বলেই তারা পড়ে না৷ 

এখন রাস্তা দুটো এক  পঠক পড়ুক না পড়ুক নিজের মতো লিখে যাওয়া৷

দুই পাঠক যা চায় সেটাই উন্নত ভাবে লেখা৷ 

এবার আপনি কী করবেন সেটা আপনার হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ পাঠকের যা করার পাঠক তাই করছে৷ 

অনুগল্প

এখন শুরু হয়েছে অনুগল্প লেখার প্রবণতা৷ লেখক কোথাও বুঝতে পারছেন যে পাঠক বড় গল্প পড়তে চাইছে না৷ সেটা আগ্রহ বা সময়ের অভাব যাই হোক৷ 

আপনারাও হয়তো খেয়াল করে থাকবেন যে কিছুদিন আগেই ফেসবুকে দশ শব্দের গল্প লেখার হিঁড়িক পড়েছিল৷ 

একটা ভাল অনুগল্পের উদাহরণ

            কয়েকটা পেটের পাটিগণিত 
 
ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে মেয়েটার। বাইরে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। ধোঁয়ার কুণ্ডলীগুলো পাক খাচ্ছে ছোট্ট ঝুপড়িটার ভেতরই। ধোঁয়াগুলোও অবেলায় ভিজতে চাইছে না আজ।
‘মা হইচে ?’
‘আর একটু দাঁড়া, তাহলেই হবেক।’
   আবার সব আগের মতোই চুপচাপ। হাঁড়িতে জল ফুটছে টগবগ করে। ভাত হচ্ছে। গরম ভাত। একটু পরেই ভুরভুর করে গন্ধ উঠবে। গরম ভাতের গন্ধ। খিদের চোটে ধৈর্য টান পড়ছে মেয়েটার।
‘মা হইচে ?’
‘আর একটু দাঁড়া…’ আবার একই উত্তর দেয় হিমানী। ওর পেটেও খিদে নামের আগুনটা জ্বলছে। জীবনের যন্ত্রণাগুলো বুকের ভেতর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বারবার। এখন শুকনো শরীরে ভাটার টান। ভাতের টান। এখন আর আগের মতো বিছানার ডাক আসে না। কদিনের টানা বৃষ্টিতে পথ ভুলেও পা মাড়ায়নি কেউ হিমানীর ঝুপড়ির দিকে। তবুও পেট ডাকছে। চুঁই-চুঁই শব্দে অবিরাম ডাকছে।
‘মা হইচে ?’  
এক পেট খিদে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটা। হিমানী মেয়ের মাথায় হাত বোলায়। চোখের জল মোছে। ঠোঁটে ঠোঁট চাপা দিয়ে গিলে খায় কান্নাটাকে। কান্নার শব্দে মেয়েটার ঘুম ভাঙলে আবার ভাত চাইবে।
  এবার শাড়ির আঁচল দিয়ে ধরে গরম হাঁড়িটাকে উনুন থেকে নামায় হিমানী। তারপর ডাবু দিয়ে হাঁড়ির ভেতরকার পাথরগুলোকে বের করে আনে। রাস্তাধারের পাথরগুলো এতক্ষণ ধরে হাঁড়ির ভেতর ফুটেছে যে, ছাল-ছাড়া সেদ্ধ আলুর মতো মনে হচ্ছে। আজকে রাতে আর তরকারিরও দরকার হবে না।

কিভাবে Bangla golpo হারানো গৌরব ফিরে পাবে ?  

বেশকিছু লেখক এখনও নিজের মতো ভাবে বাংলা গল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে লিখছেন।

যদিও বিষয়টা মোটেও সহজ নয়৷ কারণ ইন্টারনেটের জন্য সময়; সমাজ; আর মানসিকতা যত দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে বাংলা গল্প সেই তুলনায় সামান্যও পরিবর্তন পায় নি৷ পাছে লোকে কিছু বলে, ভেবে ভেবেই বাংলা সাহিত্যের লেখকরা নিজেদের কলমকে একটা বেড়াজালে অবদ্ধ করে রেখেছেন৷ 

সময় সঙ্গে ভাব ভাষা সম্পর্ক যেমন বদলায় তেমন ভাবেই বদলায় মানসিক চাহিদাও। আজকের পাঠক পাঠিকা কী পড়বে তা তারা নিজেরাই ঠিক করে। তাই শালীনতা বজায় রেখে (যতটা সম্ভব) ওদের কথা ভেবে উন্নত মানের সাহিত্য রচনা করা উচিৎ । নতুবা…

তাহলে প্রশ্ন হল বাংলা গল্প কী নিজের গৌরব আর ফিরে পাবে না৷ আর কি আগের মতো বই কেনার ঝড় উঠবে না? 

আমার মতামত

বই কেনার ঝড় হয়তো আর আগের মতো উঠবে  না৷ মানুষ দিন দিন মোবাইল লেপটপে লেখা পড়া করতে শিখছে৷ এতে আমি ক্ষতির কিছুই দেখি না৷ এতে লেখক পাঠক দুজনরই লাভ৷ 

ছোটদের পত্রিকাগুলোর (অনলাইন/প্রিন্ট) বড় দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ। ছোটদের পত্রিকাগুলোই আগামীর পাঠক তৈরির কারিগর৷ বাঁধা লেখক দিয়ে সাময়িক পত্রিকা কিছুদিন চললেও তা বেশিদিন টিকবে না। পাঠক লেখকের নাম নয় ভাল লেখা চায়, নিজের চাহিদা অনুযায়ী লেখা পড়তে চায়৷ 

তাই লেখকের উচিৎ পাঠকের চাহিদা অনুসারে লেখা।

রোগ না সারাতে পারলে যেমন ডাক্তারের ডিগ্রির কোনও দাম নেই, তেমন ভাবেই মন না ভরাতে পারলে লেখকের কলমের কোনও দাম নেই। সেই তুমি যেই হও না কেন৷ 

সম্পাদককে চা খাউয়ে চারটা গল্প হয়তো প্রকাশ করা যায় কিন্তু চল্লিশটা বাজে গল্প লিখে চারটাও পাঠক যোগাড় করা যায় না৷   

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of