Bangla novel Prometheu er pothe

Bangla novel Prometheu er pothe

 Bangla novelagainst rape. Apni jodi bangla adult novel (not sexual) porte chan ja rape er against tahole ei premer bangla novel apnar jonno
 

সম্পূর্ণ উপন্যাস/ Full bangla novel ]

 

Bangla novel Prometheu er pothe
 
[সম্পূর্ণ প্রেমের উপন্যাস]

প্রমিথিউসের পথে

 
[প্রেমের উপন্যাস] গাড়িটা বিবড়দা পেরিয়ে সোজা ছুটতে লাগল শিবডাঙ্গা মোড়ের দিকে দু’পাশে ঘন কাজুবাদামের জঙ্গল, মাঝে মাঝে টুকরো টুকরো পোড়ো জমি। জ্যোৎস্নায় ভেজা ঠাণ্ডা বাতাস একবার করে ছুঁয়ে যাচ্ছে তনুশ্রীর তন্দ্রা মাখা দেহটা। আজ আর তার কোনও পিছুটান রইল না সুদূর ভবিষ্যতের নিকনো স্মৃতির উঠোনে দাঁড়িয়েই এবার তনুশ্রীকে দেখতে হবে মা বাবা আর ছোট বোন অনুকেসম্পর্কের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শেকড় গুলোকেউ তনুশ্রী ছিঁড়ে ফেলে এসেছে বাড়ির বারান্দায়। এখন দুচোখ জুড়ে শুধুই নতুন মাটির গন্ধ। 
তনু, তনু, এই তনু’- অনুপের মৃদু ডাকে তনু চোখের পাতা খুলতেই দেখতে পায়, দূরের কাজুবাদাম জঙ্গলটা সারিবদ্ধ ভাবে পেরিয়ে যাচ্ছে একটা হাতির পাল। সার্কাসে বেশ কয়েকবার হাতি দেখেছে তনু। ডিসকভারির মতো চ্যানেলে বহুবার হাতির পালও দেখেছে। কিন্তু চোখের সামনে এমন জলজ্যান্ত হাতির পাল দেখছে এই প্রথমবার। হাতি গুলো প্রকৃতির ছন্দে এগিয়ে যাচ্ছে গভীর জঙ্গলের দিকে। অন্যদিকে তাকানোর মতো সময়টুকুও ওদের নেই। অন্যদিন হলে হয়তো তনু ভয় পেয়ে যেত। আজকে তনুর ভয় করছে না অনুপের বুকের কাছে মাথাটা এনে ফিসফিস করে তনু বল, আজ পৃথিবীর সব চেয়ে নিরাপদ বুকে আমি, আজ আর ভয় পাব না।’
অনুপ কিছু না বলে তনুর চুলে আঙুল চালাতে থাকে। গাড়িটা ডান দিকে একটু বাঁক নিতেই একটা দমকা পাহাড়ি হাওয়া তনুর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে যায়। অনুপকে আরও একটু জোরে জড়িয়ে, দুচোখ বন্ধ করে তনু খুঁজতে থাকে তিন মাস আগের সেই শ্রাবণী দিনটাকে
বাসের জন্য তনু সেদিন অপেক্ষা করছিল তালডাংরা বাস স্ট্যান্ডে কিন্তু সেদিন হঠাৎ কী একটা কারনের জন্য বাস ধর্মঘট হয়ে যাওয়ায় একটাও বাস আসেনি বাঁকুড়া থেকেতনু সেদিন বাধ্য হয়েছিল অপরিচিত অনুপের মোটর বাইক চড়তে। সেদিন তনু নিজেও ভাবেনি কদিন পরই এই অপরিচিত ছেলেটাই চির পরিচিত হয়ে যাবে। আরেকবার চোখ তুলে তনু অনুপের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে। মুচকি হেসে আবার একই ভাবে শুয়ে পড়ে। সেদিনেই প্রথম বার অনুপকে দেখেছিল তনু তারপর মাঝে মাঝেই অনুপকে দেখা যেত রাস্তায় স্কুলের দরজার বাইরে বাস স্ট্যান্ডে। যে কারনেই হোক না কেন তনুর বাসও আসত না মাঝে মাঝেই। তাই কোনওদিন রেস্টুরেন্ট কোনওদিন ইকোপার্কে দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যেত। অনুপের ব্যাপারে কিছুই কাউকে বলেনি তনু। পাছে এক কান থেক আরেক কান হতে হতে কথাটা বাবা জেনে ফেলে। এই ভয়টাই ওকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত। তনুর বাবা বিক্রম চৌধুরী এলাকার নামকরা খড়িমাটির ব্যবসায়ী। সেই সূত্রে এলাকার প্রায় সকলেই কম বেশি চেনে তনুকে। তাই তনু অনুপের মোটর বাইকে চড়ার আগে ওড়নাতে পুরো মুখ ঢেকে নিত। তবুও একদিন ইকোপার্কের ভেতরেই ধরা পড়ে গেল গ্রামের এক দাদার কাছে কথাটা বিক্রম বাবুর কানে ঢুকতে দেরি হয়নি। বাংলা সিনেমার নায়িকার মতোই প্রথমে তনুর কলেজ বন্ধ হল তারপর মোবাইল কাড়িয়ে নেওয়া হল। মোটকথা অনুপের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছিল তনুর। তনুর মা তনুকে অনেক বুঝিয়ে ছিলেন। অচেনা ছেলে, দিন-কাল ভালো নয়, তোমার বাবার একটা সম্মান আছে। আরও কত কি।
কিছুতেই কিছু হয়নি। মোবাইল না থাকলে কী হবে? তনুর ছোটো বোন অনু, মানে অনুশ্রী ঠিক পিয়নের কাজটা করেদিত। অনু না থাকলে হয়তো তনুর পক্ষে বাড়ির বাইরে পা ফেলাও সম্ভব হত না, বাড়ি ছাড়া তো দূরের কথা। আজকে সকালে অনুই অনুপের ফেসবুক মেসেজটা নিয়ে এসে দেখিয়ে ছিল তনুকে। বিকেলে ফর্ম ফিলাপের নাম করে পালিয়ে যাবার সুযোগটাও তো অনুই করে দিয়েছিল
অনুপের বুকে মাথা রেখে আজকে কত জলছবিই না ভেসে উঠছে তনুর চোখের সাদা কালো পর্দায়। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়তেই ধড়ফড় করে উঠে বসে তনু অনুপ কে জিজ্ঞেস করে, -‘ওই সেদিন বোনের ফেসবুকে যে বললে কি একটা গান শোনাবে আমাকে কই শোনালে না তো?
পকেট থেকে মোবাইলটা বের করতে করতে অনুপ ঠোঁট উল্টে বলে, -‘সবই তোমার মনে থাকে দেখছি।
-‘বারে মনে থাকবে না কেন ?’
হালকা সাউন্ড দিয়ে অনুপ মোবাইলে গানটা বাজায়, ‘আজ ফাগুনী পূর্ণিমা রাতে চল পলাইয়ে যাই।’
গানটা শেষ হলে তনু বেশ খুশি হয়ে বলে, -‘বেশ সময় উপযুক্ত গানটা তুমি কি আগাম জানতে আমরা ফাল্গুনের পূর্ণিমা রাতেই পালাব?
মৃদু হেসে অনুপ হেঁয়ালি সুরে উত্তর দেয়, -‘আমরা না জানলেও সুরজিৎ হয়তো জানত নতুবা এমন গান গাইবে কেন বলো ?
-‘তোমার না সবেতেই ইয়ার্কি বলো না তুমি কি আগেই পালানোর কথা ভেবেই রেখেছিলে?
-‘না, ঠিক ভেবে রেখেছিলাম বললে ভুল বলা হবে তবে যেদিন তোমার ফোন বন্ধ হল সেদিন থেকেই ভাবছিলাম সুযোগ পেলেই তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যাব।
তনু কি একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ড্রাইভার একটা প্রশ্ন করতেই আর বলা হল না, -‘অনুপদা কিছু কেনার থাকলে এখানেই নিয়ে নাও। আর কোথাও দোকান খোলা পাবে না মনে হয়। অনুপ ড্রাইভারকে গাড়িটা সাইড করে লাগাতে বলে নেমে পড়ে রাস্তায়। তনু জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে একটা দোকানে সাজিয়ে রাখা রঙিন আবিরগুলোর দিকে। লাল আবিরের উপর চোখটা পড়তেই কেমন যেন একটা অচেনা শিহরণ বুকের ভেতরটাকে সিক্ত করে দিয়ে যায়। খানিক পরে অনুপ কেক, বিস্কুট, পোড়া মাটির দুটো হাতি-ঘোড়া, আর খুব সুন্দর পোড়ামাটির এক