৯৯ তম জন্মদিন সত্যজিৎ রায়ের, আজকে উনার অজানা গল্প শুনুন

সত্যজিৎ রায় নামটা উচ্চারিত হলেই হাজার হাজার ছবি ভেসে ওঠে বাঙালির চোখে। আজ সত্যজিৎ রায়ের ৯৯ তম জন্মদিন। আমরা অজানা কিছু গল্প নিয়ে স্মরণ করব সত্যজিৎ রায়কে।

আজ ৯৯ তম জন্মদিন সত্যজিৎ রায় এর

“পথের পাঁচালী” থেকে শুরু করে “গুপি গায়েন বাঘা বায়েন” কিংবা “আগন্তুক” ছবির যাত্রাপথ কতটা কঠিন ছিল তা হয়তো আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বাঙালি কল্পনাও করতে পারবে না।

99 birthday Satyajit Ray

গোটা জীবনের সত্যজিৎ রায় ৩৫ টির বেশি ছবি পরিচালনা করেছেন। আজ সত্যজিৎ রায়ের ৯৯ তম জন্মদিন। পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে হলেও সত্যজিৎ রায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯২১ সালের ২রা মে, কলকাতায়।

সত্যজিৎ রায় ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, সাহিত্যিক, সঙ্গীত পরিচালক এবং গীতিকার। সত্যজিৎ রায় যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। এবং সেই সোনা মুঠোমুঠো ভরে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঙালির ঘরে ঘরে।

সত্যজিৎ রায় ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর পৌত্র এবং সুকুমার রায়ের পুত্র। কাজে কাজেই সত্যজিৎ রায়ের পুরো জীবন কেটে গেছে।অথচ সত্যজিৎ রায় জীবনের প্রথম ছবি “পথের পাঁচালী” যখন পরিচালনা করতে যান তখন তিনি জানতেন এই না যে সিনেমা তৈরি করার জন্য স্ক্রিপ্ট আলাদাভাবে তৈরি করতে হয়। পরিচালক যখন সুটিং শুরুর আগে উনার কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট চেয়েছিলেন তখন উনি বলেছিলেন ‘স্ক্রিপ্টের কি দরকার আমি যা বলব যা করব তাই ওরা বলবে তাই ওরা করবে’ সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম সত্যজিৎ রায়ের কথা শুনে।

অজানা সত্যজিৎ রায়

পরে নিজেই কলম নিয়ে আসতে বলে চিরকুটের উপরে এক এক করে ডায়লগ লিখে দিতে থাকেন। এবং কে কেমন ভাবে ডায়লগ বলবেন সেটাও তিনিই লিখে দিয়েছিলেন। এই ভাবেই তৈরি হয়েছিল বিশ্ব বিখ্যাত সিনেমা “পথের পাঁচালী”

৯৯ তম জন্মদিনে ফিরে দেখা সত্যজিৎ রায়

তেমনি আরেক মজার গল্প ঘটেছিল উত্তম কুমার কে নিয়ে। তখন উত্তম কুমার সাফল্যের শিখরে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা দিয়ে যাচ্ছেন উনি। চলছে নায়ক সিনেমার শুটিং। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো যে নায়ক সিনেমাটি উত্তমকুমারের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় সিনেমা গুলির মধ্যে একটি।

শুটিংয়ের কয়েকদিনের ভেতরে মহানায়ক উত্তম কুমারের সারা মুখ ভরে গেল গুটিবসন্তে। প্রায় একমাসের মতো বন্ধ রইল শুটিং কিন্তু মুখের থেকে বসন্তের দাগ গেলোনা মহানায়কের।পরে মহানায়ক উত্তম কুমার সুস্থ হলে আবার পুনরায় শুরু করা হলো নায়ক সিনেমার শুটিং।

মুখে গুটি বসন্তের দাগ নির্মূল করার জন্য মেকআপম্যান যখন উত্তমকুমারকে মেকআপ দিতে গেলেন তখন বাধা দিলেন সত্যজিৎ রায়। বললেন মেকআপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিছুটা বিব্রত বোধ করার পর যখন মহানায়ক উত্তম কুমার সত্যজিৎ রায়ের কাছে এলেন তখন সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন কোন চিন্তা নেই, তোমার মুখের দাগ সিনেমাতে দেখা যাবে না।সিনেমা রিলিজের দিন উত্তম কুমার হতবাক হয়ে দেখেছিলেন যে সত্যি সত্যি মুখে কোন দাগ দেখা যায় নি। উত্তম কুমারের নায়ক সিনেমা কতটা জনপ্রিয় হয়েছিল তা হয়তো আপনাদের অনেকেরই জানা থাকবে।

এই দুটো গল্প থেকে আশা করি আপনারা একটা সাধারণ ধারণা করতে পারছেন যে পরিচালক সত্যজিৎ রায় কেমন মানুষ ছিলেন।

আরও পড়ুন- লকডাউনেও খুলছে মদের দোকান

Satyajit Roy Horror Bengali Books

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.