চুরি হচ্ছে শিরপুরা গ্রামের মনোরম সোনাঝুরি গাছ

অবশেষে পাওয়া গেল চুরি যাওয়া সোনাঝুরিগাছ

লকডাউনে মোটামুটি ভাবে সবাই গৃহবন্দি এমন অবস্থায় বাঁকুড়া জেলার শিরপুরা গ্রামের সোনাঝুরি জঙ্গল থেকে হু হু করে চুরি হচ্ছিল সোনাঝুরি গাছ। গ্রামের মানুষ বারবার জানাচ্ছিলেন ঝাঁন্টিপাহাড়ি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে।

চুরি হচ্ছে শিরপুরা গ্রামের মনোরম সোনাঝুরি গাছ

ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শিরপুরা গ্রামের মনোরম সোনাঝুরি জঙ্গল

বেশ কয়েক মাস ধরে বাঁকুড়া জেলার শিরপুরা গ্রামের জঙ্গল থেকে চুরি যাচ্ছিল সোনাঝুরি গাছ। একের পর এক মোটা সোনাঝুরি গাছ নিয়ে চোরের দল রাতের অন্ধকারেই হাওয়া হয়ে যেত।

সোনাঝুরি জঙ্গল

লকডাউন ভেঙ্গে দু’একবার গ্রামের মানুষ খোঁজখবর করেছিল গাছগুলোর কিন্তু কোনো খোঁজখবর তো দূরের কথা চিহ্নমাত্র পাওয়া যায়নি গাছের।

দু’একদিন ছাড়া ছাড়াই চুরি হয়ে যাচ্ছিল মোটা মোটা দামি সোনাঝুরি গাছগুলো। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট নীরব দর্শক মাত্র। একে অপরকে দোষারোপ দেওয়া ছাড়া ওদের আর কোনও কাজ তেমনভাবে গ্রামের মানুষের চোখে ধরা পড়েনি।

শেষ পর্যন্ত আজ সকাল সাড়ে সাতটায় শিরপুরা গ্রামের দুই ছেলে পাশের গ্রাম জামথোলের এক ডোবা থেকে উদ্ধার করে প্রায় এক ট্রাক্টরের মত মোটা সোনাঝুরি গাছের গুড়ি। গ্রামের মানুষই জানায় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে।

ওই সমস্ত সোনাঝুরি গাছেরগুড়ি গুলিসহ গ্রামের অন্যান্য বেআইনিভাবে কাটা গাছগুলিকেও বাজেয়াপ্ত করেছে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট।

কিন্তু মজার ঘটনা হলো কে বা কারা এই গাছগুলো এতদিন পর্যন্ত চুরি করছিল তা এখনো পর্যন্ত ধরতে পারেনি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট।

এমন ভাবে রাতের পর রাত চুরি হতে থাকলে শিরপুরা গ্রামের জঙ্গল সুন্দর সোনাঝুরি গাছের জঙ্গল শেষ হতে আর কয়েক মাস লাগবে। মোটা মোটা গাছগুলো অলরেডি চুরি হয়ে গেছে। যে কয়েকটা মোটা গাছ পড়ে আছে সেগুলো যাতে চুরি না যায় তার জন্য রাতেও নজর রাখতে  বলা হয়েছে ফরজ ডিপারমেন্টকে।

গ্রামের মানুষ উনুনে রান্না করার জন্য কাঠ-পালা কুড়িয়ে নিয়ে আসবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু রাতের অন্ধকারে একের পর এক গাছ চুরি হয়ে যাবে এটা সত্যি সত্যি অস্বাভাবিক। এত এত গ্রামের মানুষের নজর থাকা সত্ত্বেও আজ কয়েক মাস ধরেই রেনডমলি চলছিল এই চুরি।

শিরপুরা গ্রামের মানুষ ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের কাছে দাবি করেছে যাতে দুই-একদিনের ভেতর কে বা কারা গাছগুলো চুরি করেছিল তাদেরকে যেন ধরা হয়। যদি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদেরকে ধরতে না পারে তাহলে শিরপুরা গ্রামের মানুষ ছাতনা থানায় কমপ্লেন জানানোর কথাও  জানিয়েছে  ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে।

এই সোনাঝুরি গাছের জঙ্গল শিরপুরা গ্রামের সৌন্দর্যকে বাঁকুড়া জেলার কাছে এক অন্যতম রূপ দিয়েছে। যারা শুশুনিয়া পাহাড় ভ্রমণের জন্য আসেন তারা যখন শিরপুরা গ্রামের উপর দিয়ে পেরিয়ে যান তখন তারা এই গ্রামের সোনাঝুরি জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখতে দাঁড়িয়ে পড়েন। সত্যিই মনোরম এই সৌন্দর্য।

যাতে শিরপুরা গ্রামের সৌন্দর্য নষ্ট না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর কাছে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এই দায়িত্ব নিতে না পারলে গ্রামের মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে। সোনাঝুরি গাছের এই সৌন্দর্য শিরপুরা গ্রামের রূপকেই প্রকাশ করে আসছে।

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.