শচীন বনাম শোয়েব

শচীন বনাম শোয়েব ২০০৩- কী বললেন রাউলপিন্ডি এক্সপ্রেস

একটা সময় ভারত বনাম পাকিস্তান লড়াই হত না, লেখা থাকত শচীন বনাম শোয়েব। আগুন ঝরানো আকাশ বাতাস। সব যেম থমথমে হয়ে থাকত। খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষা….

 

শচীন বনাম শোয়েব ২০০৩

দুহাজার তিনের বিশ্বকাপছিল এমনই এক আগুন ঝরানো সময়। কোয়াটার ফাইনালে ভারত পাকিস্তান মুখোমুখি। একদিকে শোয়েব আক্রম সামী রজ্জাক আফ্রিদি। আরেক দিকে শচীন সৌরভ সেওবাগ দ্রাবিড় কাইফ যুবরাজ।

আপার কাট মারা শোয়েবকে শচীনের ছয়টা ভারতবাসী আজও ভুলতে পারে নি।

খেলাটা মনে পড়লে গাঁয়ে কাঁটা দেয়। সেই সময় ২৭৩ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাড়া করে জেতা প্রায় অসম্ভবছিল। ৪০ রানের আগেই সৌরভ সেওবাগ ফিরে গেছে একটা ওভারেই। সারাদেশ আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করছে….. শচীন…..শচীন…..শচীন। টিভিতে সুধীর গৌতমের শাঁখের আওয়াজ….. যেন আবার কার্গিলে ভারত পাকিস্তান।

সারা ভারতকে সেদিন প্রতিবারের মতো বিপদ মুক্ত করলেন ভারতরত্ন শচীন তেন্ডুলকার। ৯৭ রান থেকে ৯৮ এ যাওয়ার সময় পায়ে চোট লাগে শচীনের। রানার্স নিতে হয়। কিন্তু ৯৮ রানেই শচীন ফিরে যান শোয়েব আকতারের বিষাক্ত বাউন্সারে।এরপর দায়িত্ব নিয়ে ৫০+ করে যুবরাজ আর দ্রাবিড় ভারতকে জেতায়। কাইফের ৩৭ মনে রাখার মতো।

আজ শোয়েব নিজে বলেছেন,- সারা ভারতের ১৩০ কোটি ওই ছয়টায় এত খুশি হবে জানলে প্রতিদিন একটা একটা করে ছয় খেতাম।

ভারত পাক ম্যাচের আয়োজন করতে বলেই বিতর্কে জড়ান শোয়েব। যদিও শোয়েবের বক্তব্য মোটেও উড়িয়ে দেওয়ার মতোছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির কথা বিচার করেই কপিল দেব গাভাস্কাররা উড়িয়ে দেন শোয়েবকে।

শোয়েব চেয়েছিল দর্শকহীন মাঠে ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ করিয়ে টিভি বিজ্ঞাপন থেকে টাকা তুলে দুই দেশের গরীব মানুষের ভেতর বিতরণ করতে। আসলে এখনো ভারত পাকিস্তান ম্যাচ হলে সত্যিই কোটি কোটি লোক খেলা দেখবে এটা বাস্তব। কারণ ২০০৭ সালের পর এশিয়াকাপ আর বিশ্বকাপ ছাড়া দুইদেশ মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায় নি।

এই দুই দেশের খেলা করানো নিয়ে বলতে গিয়েই আজকে কথায় কথায় শচীনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।যদিও শোয়েব মনে করিয়েছেন, শচীন সৌরভ উনার বরাবর বেস্ট ফ্রেন্ড। তাছাড়া শোয়েব শচীন্র মাস্টার ব্লাস্টার টিমেরও ফাস্ট বোলার হয়েও খেলেছে।

এই দুই মহারথির লড়াই শুধু ক্রিকেট মাঠেই। মাঠের বাইরে দুজন সত্যিই দারুন বন্ধু। খেলাটাকে খেলার জায়গায় রেখেছিলেন দুজনে, বন্ধুত্ব বন্ধুত্বের জায়গায়।

ঠিক যেমন দেখা গিয়েছল আন্ডারটেকার আর ব্রক লেসনারের ভেতর। ডেডম্যানের বহুবছরের রেকর্ড ভেঙেছিলেন লেসনার। কিন্তু সেই রেকর্ড ভাঙার পর কেঁদে ফেলেছিলেন লেসনার। আসলে দুজন দুজনার ভয়ানক শত্রু রেসলিং মাঠে কিন্তু মাঠের বাইরে দুজনে দুজনার খুব প্রিয় বন্ধু।

শচীন শোয়েব অনেকটাই তাই। মাঠে আগুন একে অপরের জন্য। মাঠের বাইরে বন্ধু।

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.