Skip to toolbar
শচীন টেন্ডুলকার

শচীনকে ভালবেসে চাকরি হারিয়েছিলেন দাদু

শচীন শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটার ছিলেন না শচীন ছিলেন, প্রতিটি ভারতবাসীর অন্তর আত্মার আত্মীয়। শচীনের ভক্ত যেমন ছিল তেমনি ছিল অন্ধ ভক্ত।

কেন ভারতবাসী শচীনকে এতোটা ভালবাসে তার একটা ভিডিও নিচে দিলাম

শুভ জন্মদিন শচীন

এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয় যারা শচীনের কোন ভুলকে ভুল বলে কিছুতেই মানতে নারাজ ছিলেন। শচীনের ভুলকে ঠিক প্রমাণ করার জন্য তারা তর্ক দিয়ে শুরু করে হাতাহাতিতে পর্যন্ত জড়িয়ে যেতেন অনায়াসেই। এই মানুষগুলো শচীনকে এতোটাই ভালবাসতো যে শচীনের কোন সমালোচনা শুনতে নারাজ থাকতো।

তেমনি একজন শচীন প্রেমী মানুষ ছিলেন আমার এক দাদু, শুধুমাত্র শচীনের সমালোচনা করার জন্য তিনি নিজের অফিসারের গালে চড় মেরে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

চাকরি ছাড়ার পর কাজে জয়েন করেছিলেন নিজের ভাগ্নের এক মিষ্টির দোকানে, সেখানেও এক টেবিলে বসা চারজন যখন শচীনের সমালোচনা করেছিল তাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দিয়েছিলেন তিনি। অনেক বোঝানোর পরেও উনার শচীনরোগ যায়নি। শুধুমাত্র শচীনের জন্য মিষ্টির দোকানের কাজটুকুও ছেড়ে দিয়েছিলেন উনি। বাকি পুরোটা জীবন কাটিয়েছিলেন ভবঘুরে হয়ে।

সারা ভারত ঘুরে বেড়ালে এমন শচীন প্রেমী মানুষের সংখ্যা নেহাত কম মিলবে না। আসলে শচীন টেন্ডুলকার অনেক মানুষকে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নতুন ভাবে বাঁচতে শিখিয়েছিলেন। তাই শচীন ক্রিকেটের ঈশ্বর হওয়ার অনেক আগেই মানুষের অন্তরে ঈশ্বরের স্থান পেয়েছিলেন।

কাঠের পাটাকে ব্যাট বানিয়ে তার উপরে এমআরএফ যেমন লিখতে শিখিয়ে ছিলেন শচীন, ঠিক তেমন ভাবেই ভারতের প্রতিটা ঘরে ঘরে নতুন শচীন তৈরীর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন উনিই।

আজকের সুপারস্টার বিরাট কোহলি রোহিত শর্মা কিংবা মহেন্দ্র সিং ধোনি  শচীনকে সামনে রেখেই বড় হয়েছিলেন। তারা তাদের স্মৃতিচারণাতে সেই সব কথা উল্লেখ করেছেন বারবার। ক্রিকেটের ঈশ্বর হওয়ার অনেক আগেই শচীন টেন্ডুলকার ভারতের ঘরে ঘরে নিজের জন্য একটা সম্মানের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন।

এখনো যদি ইউটিউব খুলে চেক করেন তাহলে দেখবেন এখনো পর্যন্ত শচীন টেন্ডুলকারের পুরানো খেলা দেখার ভক্ত কতখানি। ক্রিকেট থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার এত বছর পরও শচীনের অনুরাগীর সংখ্যা কমেনি।

শচীন কম রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর যেমন ধীরে ধীরে মাঠ খালি হতে শুরু করত ঠিক তেমনভাবে শচীন আউট হয়ে যাবার পর  টিভি রেডিওগুলোও বন্ধ হয়ে যেত।

শচীন যখন ২৩-২৪ বছর ধরে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন ভারতের জন্য তেমনি প্রতিটি ভারতবাসী নিজেদের হৃদয় উজাড় করে দিয়েছেন শচীনের জন্য।

শচীন প্রতিটি ভারতবাসীর কাছ থেকে এত পরিমান ভালোবাসা পেয়েছেন যে আজকের দিনে কোন ক্রিকেটারের পক্ষে সেটা কল্পনায় আশা করাও অসম্ভব।

একটা সময় এমনছিল যখন দেশ হারুক বা জিতুক সেই নিয়ে মাথাব্যাথা অতটা ছিল না, সবাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করত আজ যেন শচীন সেঞ্চুরি করে। শচীনের বড় রান করাটাই ছিল ভারতবাসীর কাছে ভারতের জয়ের চেয়েও বেশি কিছু।

কেন মানুষ শচীনকে এতটা ভালবাসত তার উদাহরণস্বরূপ ছোট্ট একটা ভিডিও নিচে দিলাম।

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

COVID-19

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখুন