মায়ের চিঠি

www.amarsahitya.com

মা www.amarsahitya.com

মায়ের চিঠি


বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়

দু’বছর হল ছেলে গেছে কাজে গেছে
আবর্জনার সাথে পড়ে আছে বিধবা মা। ভিটে আগলে।
প্রথম চিঠিঃ-
‘গেল বৈশাখী ঝড়ে পশ্চিমের দেওয়াল ভেঙেছে
ওরা বলেছিল ইন্দিরা বাস করে দেব। ভোট দিও।
খোকা বড় একা লাগে। এবার আমের আচার
খেতে পারিনি ঘরেই রাখা আছে। তোর জামা দুটোও
কাচিনি এখনো। তোর শরীরের গন্ধ লেগে আছে বলেই।
মনে হয় ঘরেই আছিস। সেই কবে গেছিস!
চিঠি পেলেই উত্তর দিবি। আশীর্বাদ নিবি।
ইতি তোর
        মা।’
সাইকেল টুং টুং করে পোষ্টম্যান চলে গেছে
খুলে খুলে পড়েছে দেওয়ালের মাটি
ঝুলে পড়েছে খড়ের চালা।
উনুনে হাঁড়িতে মাঝে মাঝেই বিরোধ লাগে
অবরোধ করে বসে নুন- ভাতের সাথে। পেটে টান পড়ে।
দ্বিতীয় চিঠিঃ-
‘খোকা তুই যাবার পর আর কোন উত্তর পাইনি তোর
মনটা কেমন যেন করে। সেদিন ঘরে চাল ছিল না
তাই অভাবে জমিটাই বন্ধক দিলাম। পুকুর পাড়ের
তাল গাছ দুটো মল্লিকরা বেচেছে। ঘরের আলো টুকুও নেই আর।
জানি না কখন কী হয়। পারলে একবার আসিস।
বড় দেখতে ইচ্ছে করে। ভালো থাকিস
ইতি তোর
        মা।’
দক্ষিণের একটা কোন ছাড়া আর ঘর বলে কিছুই রইল না
সারা দিন সূর্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে
রাত্রিতে চাঁদ উঁকি দিয়ে যায় মাথার উপরে।
আগে পাশের বাড়ির দত্তরা দু’মুঠো ভাত দিত, গোয়াল ঘর
পরিষ্কার করে দিলে। গেল মাসে গরু বেচে দিয়েছে ওরা।
শেষ চিঠিঃ-
‘ভোট পেরিয়ে গেছে কবেই। ইন্দিরাবাস এখনো পাইনি।
ভেবে ছিলাম বিষ খাবো, পারিনি। ভেবে ছিলাম
গলায় দড়ি দেবো, তাও পারিনি। পেরেছি শুধু
নগ্ন শরীরের নর্দমায় স্নান করে পবিত্র হতে।
মানুষ তো তাই পারলাম না দাঁতে দাঁত চেপে মৃত্যু যাপন করতে।
খোকা তুই তো জানিস আমি তোরই মা। আর তো সন্তান নেব না
না হয় এবার বেশ্যাই হয়ে যাই না অভাবের দরবারে
কী করবো বল বড়ো বাঁচতে লোভ করে।
আমার জন্য চিন্তা করিস পাছে, তাই জানালাম
আমাকে দেখার এখন অনেকেই আছে
আমি নিচে নামছি আরও আরও অনেক নিচে
যেখানে মাতৃ গর্ভ কালো হয়ে যায় আলোর আঁধারে
যেখানে কোনও সন্তান মা খোঁজে না মমতার কারাগারে।
ভালো থাকিস।
ইতি, তোর
    মা” 

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.