ভালবাসা

কীভাবে ভালবাসা বুঝবেন, কীভাবে ভালবাসি বলবেন

কীভাবে ভালবাসা বুঝবেন? আমরা সত্যিই অনেক সময় বুঝতে পারি না সে আমাকে ভালবাসে কি না। অনেক সময় ভালবাসি এই কথাটা বলতেও পারি না। চলুন দেখা যাক সে ভালবাসে কি না।

ভালবাসা

ভালবাসা কাকে বলে, কিভাবে বুঝবেন মেয়েটি ভালবাসে কিনা? 

ভালবাসা বোঝার আগে বোঝা দরকার ভালবাসা কাকে বলে?

এককথায় বললে ভালবাসা হল একটা বিশ্বাস বা বোধ। যা মনের গভীরে জন্ম নেয়।

অচেনা অজেনা কারুর গল্প শুনতে শুনতেও ভালবাসার জন্ম হতে পারে। আবার কাউকে দেখে ভাললাগতে লাগতেও ভালবাসার জন্ম হতে পারে।

তাহলে ভালবাসা দেখা বা শোনা এই দুই এর মাধ্যমে মূলত হয়ে থাকে। আমরা ফেসবুকে কারুর সঙ্গে কথা বলতে বলতেও ভালবেসে ফেলি। আননোন নম্বররের থেকে কল আসা নম্বরটিও একদিন চিরপরিচিত হয়ে যায়।

Bangla love story, valentine's day 2020

আসলে ভালবাসা পুরোটাই মনের খেলা, আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। আমরা ইচ্ছে করে কাউকে ভালবাসতেও যেমন পারি না তেমন আবার জোর করে কাউকে  ভাল না বেসে থাকতেও পারি না।

মন নিজেই ঠিক করে সে কাকে ভালবাসবে। আমরা নিমিত্ত মাত্র। কিন্তু ভালবাসার এই গোপন খেলায় আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না সে আমাকে ভালবাসে কি না?

যত জটিলতার জন্ম এখান থেকেই। ভালবাসার নিজের অজান্তে জন্ম নেয়, নিজের অজান্তেই বিলিন হয়ে যায়। তাই চিরপরিচিত কেউ হয়ে যায় এক্কেবারে অচেনা, আবার অচেনা কেউ হয়ে যায় আগামীর জীবনসঙ্গী। সত্যিই অদ্ভুত এই ভালবাসা।

  তাহলে  ভালবাসা কীভাবে বুঝব? 

হ্যাঁ ভালবাসা বোঝার উপায় অবশ্যই আছে। উপায়গুলো বলার আগে একটা ছোট্ট গল্প বলে নি, তাহলে বুঝতে ও বোঝাতে সুবিধা হবে।

সালটা ২০০৯। আমরা তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ছি। আমার বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় ওর গ্রামেরই এক মেয়ের প্রেমে পাগল।

কিন্তু যতবার ও মেয়েটিকে ভালবাসার কথা বলেছে ততবারেই মেয়েটি ওকে নরম ভাবে “না” বলে সরে গেছে।

কেন জানিনা প্রেমের বিষয়ে লোকে বরাবর আমার পরামর্শ নিতে এত পছন্দ করে। তা মৃত্যুঞ্জয় যখন সব আমাকে বলল, আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম,-

এবারে বাড়িতে গিয়ে ওর কাছাকাছি ঘুরবি ফিরবি কিন্তু একটাও কথা বলবি না। একটাও না। ও কথা বললে হ্যাঁ না হুম এভাবেই উত্তর দিয়ে দ্রুত সরে যাবি। ও কথা না বললে সমস্যা নেই।

তা সেবার মৃত্যুঞ্জয় বাড়িতে গিয়ে টানা ১৫ দিনের মতো বাড়িতেইছিল। একদিনও কথা বলে নি। মেয়েটিও বলে নি। ওদের পথে ঘাটে মেলায় বহুবার দেখা হয়েছিল। মেয়েটি সামান্য হলেও সুযোগ দিয়েছিল কথা বলার। মৃত্যুঞ্জয় তবুও কথা বলে নি। আমার কোঠোর নিষেধছিল।

যেদিন ও কোলকাতায় ফিরল, সেদিন ও সত্যিই বিষন্নছিল। যেন আমার কথা শুনে সব হারিয়ে এসেছে। কেন জানি না আমার বিশ্বাসছিল,- আজ রাতেই কল আসবে। আসবেই।

রাত এগারোটা নাগাদ মেয়েটির কাকিমা কল করল। বিউটি ব্লেডে করে হাত কেটেছে। কেন মৃত্যুঞ্জয় কথা বলে নি?  ও কি তাহলে কোলকাতা শহরের কোনও মেয়েকে…. ( মেয়েটির নাম বিউটি)

আজ কয়েকবছর হল ওদের বিয়ে হয়েছে। একটি ছেলেও আছে, সুখের সংসার।

তাহলে এই গল্প থেকে আমরা এটুকু নিশ্চয় বুঝতে পারলাম, ভালবাসা অনেক সময় নানান পারিপার্শ্বিক চাপে প্রকাশ পায় না। ভালবাসাকে নাড়া দিয়ে জাগিয়ে নিতে হয়। 

আসলে মেয়েদের মনে ভালবাসার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেয়েটির পরিবার। আর পরিবারের কথা ভেবেই বেশিরভাগ মেয়ে ভালবাসার মানুষকে “না” বলতেই থাকে। কিন্তু যেদিন সেই মেয়েটি ভালবাসার মানুষটিকে হারিয়ে ফেলার ভয় পায় সেদিন থেকে তাতে আঁকড়ে ধরার জন্য আকুল হয়ে পড়ে।

তাহলে কিভাবে বুঝব মেয়েটি আমার প্রেমে পড়েছে কিনা

  • যাকে আপনি ভালবাসেন। যাকে একবার দেখার জন্য এরাস্তা থেকে ওরাস্তা ঘুরে বেড়ান। হঠাৎ করেই তাকে এঁড়িয়ে চলতে শুরু করুন, যদি সে ভালবাসে তাহলে সে নিজেই থাকতে না পেরে আপনার কাছে আসবে। আসবেই। আসতেই হবে। ভালবাসার মানুষ সব সহ্য করতে পারে, অবহেলা সহ্য করতে পারে না।
  • যদি মেয়েটি আপনার স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির বা নিজ এলাকার হয় তাহলে তার “না” কে “হ্যাঁ” করার জন্য তাকে এভোয়েড করে অন্য মেয়ের সঙ্গে হঠাৎ করেই বেশি বেশি কথাবলতে শুরু করুন। যদি মেয়েটির মনে ভালবাসা থাকে তাহলে মেয়েটি এটা কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না। একটি ছেলে বা মেয়ে সব পারে ভালবাসার মানুষের একবিন্দু ভাগ দেওয়ার কথা ভাবতেও পারে না।
  • যদি ছেলেটি/মেয়েটি আপনার বন্ধু/বান্ধবী তাহলে বিষয়টা একটু জটিল। এখানে ওর প্রতি আপনার দায়িত্ব, ওকে মিস করা, কেয়ার করা সবকিছু দিয়ে বোঝাতে হবে আপনি ভালবাসেন। তবুও যদি না বোঝে তাহলে বাঁকা পথে নয়, সরাসরি ওর সঙ্গে পুরো জীবন কাটানোর কথা বলুন। হতেপারে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে যেতে ওর সময় লাগবে কিন্তু এটুকু সময় আপনাকে দিতেই হবে।

ভালবাসি একথা তাকে কীভাবে বলব?

  অনেক মানুষ আছেন যারা ভালবাসি একথাটা সারাজীবনেও বলতে পারেন না। ভালবাসি বলায় যে দায়িত্ব থাকে সেটা নিতান্ত কম নয়। এই দায়িত্ব আর হারিয়ে ফেলার ভয় মানুষকে বেশিরভাগ সময় ভালবাসি এই কথাটা বলতেই দেয় না।

যাকে ভালবাসেন তাকে যেভাবেই হোক আপনার ভালবাসার কথা জানান। এটা জানাতে না পারলে আজীবন কষ্ট পাবেন। আজীবন মনে হবে, যদি ভালবাসি বলতাম।

তাই পুরো একটা জীবন কষ্ট পাওয়ার চেয়ে ভালবাসি বলে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। যাকে হারানোর ভয়ে আপনি ভালবাসার কথা বলতে পারছেন না, না বলতে পারলে সে এমনিই হারিয়ে যাবে তাহলে ভালবাসি বলতে এত ভয় কীসের?

সবসময় সরাসরি ভালবাসি বলা সম্ভব হয়তো হয় না, কিন্তু ওকে এটুকু নিশ্চয় বোঝাতে পারবেন যে, আপনার জীবনে ওর কতটা গুরুত্ব। আর অবশ্যই আপনার গুরুত্বটা আপনার ব্যবহারে ওকে বোঝাতে হবে। ও যেন ফিল করে যে আপনি যেদিন থাকবেন না সেদিন ও সত্যিই একা হয়ে যাবে।

ভালবাসি এই শব্দটায় একজীবনের পুরো দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা যদি আপনার আছে তাহলে ভয় কীসের? আপনি ভালবেসেছেন, খুন তো করেন নি। ভালবাসি এটা সবার বলার বা শোনার সৌভাগ্য সবার হয় না। নিজের ভালবাসাকে গোপন রেখে ভালবাসাটাকেই ছোট করছেন, নিজেকে শুধুশুধু কষ্ট দিচ্ছেন। যান আজকেই তাকে ভালবাসার কথা বলুন, কাল সুযোগ থাকবে না থাকবে কে বলতে পারে।

লেখাটা শেষ করার আগে অবশ্যই বলব,- বন্ধু সবাই ভালবাসতে পারে না। সবাই ভালবাসা পায়ও না। এই দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ ভালবাসার খোঁজেই পুরো জীবনটা কাটিয়ে দেন। তাহলে আপনি নিজের ভালবাসাকে গোপন রাখবেন কেন।

আপনি ভাগ্যবান, আপনি ভালবাসতে পেরেছেন। ঈশ্বর বা আল্লা যাই বলুন উনি সবাইকে ভালবাসার মতো বড় মন দেন নি। তাই বন্ধু নিজেকের ভালবাসাকে গোপন না রেখে প্রকাশ করুন। ভবিষ্যৎ আপনার হাতে নয়, কিন্তু আজকের দিনটাতো আপনার হাতে। তাই কাল নয়, আজকেই ভালবাসি বলুন।




Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.