নির্ভয়া কান্ডে ফাঁসি হল

ফাঁসি হল নির্ভয়া কান্ডের অপরাধীদের

২০১২ সালে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার আসামিকে দিল্লির তিহার কারাগারে একসঙ্গে ফাঁসি দেওয়াা হল। ফাঁসি দিলেন ফাসুড়ে পবন জসল্লাদ।
নির্ভয়া কান্ডে ফাঁসি হল

ফাঁসি দেওয়া হল নির্ভয়া কান্ডের চার অপরাধীকে

রেয়ারেস্ট অফ দ্য রেয়ার ক্রাইম। অর্থাত্‍ বিরলতম অপরাধের মধ্যেও বিরল। এমন নৃশংস গণধর্ষণ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল নির্ভয়ার শরীর। দোষী ছিল ছয় জন। তার মধ্যে একজন নাবালক হওয়ায় ছাড়া পেয়ে যায় দ্রুত। বাকি পাঁচ জনকে নিয়ে চলতে থাকে টানাপোড়েন।

২০১৩ সালে তিহাড় জেলেই মৃত্যু হয় এক রাম সিং-এর। আত্মহত্যা করে সে। সুপ্রিম কোর্ট বাকিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেও চলে দীর্ঘ টালবাহানা। কিন্তু হাল ছাড়েননি নির্ভয়ার মা-বাবা। মেয়ের হয়ে লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর ২০ মার্চ, ২০২০ ফাঁসি দেওয়া হল নির্ভয়া কান্ডের চার অপরাধীকে।

একের পর এক টালবাহানা আদালতে এনে ফাঁসির দিন পিছিয়ে দিচ্ছিল নির্ভয়া কান্ডের চার অপরাধী। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। অবশেষে আজ ২০ মার্চ ২০২০, নির্ভয়া কান্ডের চার অভিযুক্তদের ফাঁসি দেওয়া হয়।

নির্ভয়া কান্ড কী? কে এই নির্ভয়া? 

আপনি কি জানেন নির্ভয়া কান্ড কী? কে এই নির্ভয়া?  নির্ভয়ার আসল নাম কি? কেন তাকে নির্ভয়া বলা হয়? যদি না জানেন জেনেনিন।

নির্ভয়া কান্ড বিস্তারিত, কে এই নির্ভয়া 

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বন্ধু অবীন্দ্র প্রতাপ পাণ্ডে-র সঙ্গে ‘লাইফ অফ পাই’ সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন প্যারামেডিক্যালের ছাত্রী জ্যোতি সিং। রাজধানী দিল্লিতে রাত সাড়ে আটটায় বাড়ি ফেরার জন্য একটি বাসে ওঠেন তাঁরা। 

তার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে চিরতরে পাল্টে যায় তাঁদের জীবন। তারা কল্পনাও করে নি এভাবে রাস্তার মাঝে বাসের উপর তাদের জীবন থমকে যাবে।

  • বাসে উপস্থিত ৬ জন মদ্যপ অবীন্দ্রকে মাথায় রডের বাড়ি মেরে জ্যোতিকে বাসের এক প্রান্তে টেনে নিয়ে গিয়ে একে একে ধর্ষণ করে। 
  • এদের মধ্যে এক নাবালক (তখন তার বয়স ১৮ বছরের থেকে কয়েক দিন কম ছিল) একটি জং ধরা লোহার রড জ্যোতির যৌনাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে ইন্টেস্টাইন পর্যন্ত ছিঁড়ে বার করে আনে।
  •  চলন্ত বাস থেকে তাঁদের দু’জনকে ফেলে দেওয়া হয় মহীপালপুরের কাছে একটি রাস্তায়। জ্যোতিকে বাসের নীচে চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করে চালক রাম সিং। তবে অবীন্দ্র সময় মতো জ্যোতিকে ফুটপাথে টেনে তুলে নেওয়ায় তা হয়নি। 
  • দিল্লি পুলিশের সাহায্যে এঁদের উদ্ধার করে ভর্তি করা সফদরজং হাসপাতালে।

 

  • ১৭ ডিসেম্বর ২০১২: বাস চালক রাম সিং-সহ চার জনকে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিশ। এরা হল রামের ভাই মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা এবং পবনকুমার গুপ্তা। জ্যোতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

 

  • ১৮ ডিসেম্বর ২০১২: চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সারা দেশ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। শুরু হয় রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল।

 

  • ১৯ ডিসেম্বর ২০১২: সংক্রমণের কারণে তিন দিনের মধ্যে পাঁচটি অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। জ্যোতির ইন্টেস্টাইনের বেশিরভাগ বাদ দেওয়া হয়।

 

  • ২১ ডিসেম্বর ২০১২: নাবালক অভিযুক্তকে দিল্লির আনন্দবিহার বাস টার্মিনাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জ্যোতির চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠিত হয়। অবীন্দ্র দোষী হিসাবে শনাক্ত করেন মুকেশকে। হরিয়ানা এবং বিহারে দফায় দফায় তল্লাশি ষষ্ঠ অভিযুক্ত অক্ষয়কুমার সিং-এর খোঁজে।

 

  • ২২ ডিসেম্বর ২০১২: বিহার থেকে গ্রেপ্তার হয় অক্ষয়। নিয়ে আসা হয় দিল্লিতে। হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বয়ান রেকর্ড করেন জ্যোতি।
  • ২৫ ডিসেম্বর ২০১২: জ্যোতির শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি।
  • ২৬ ডিসেম্বর ২০১২: বিশেষ বিমানে উড়িয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে।
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১২: মাল্টি অর্গ্যান ফেইলিওর হওয়ায় মৃত্যু হয় জ্যোতির। সারা দেশ তাঁকে নির্ভয়া বলে সম্বোধন করে।

 

 

Spread the love

Leave a Reply