X
ফণী- ওড়িশা সহ বাংলার বেশকিছু এলাকায় ভয়ানক গতিতে এগিয়ে আসছে ফণী ঘুর্ণিঝড়। কিছু নিষেধ রইল সবার জন্য। অবহেলা করবেন না।
ফণী

প্রবল গতিতে আছড়ে পড়বে ফণী

ওড়িশা সহ বঙ্গোপসাগরের উপকূল সংলগ্ন সব এলাকাকে সতর্ক করা হয়েছে। ফণীর হাত থেকে বাঁচার জন্য যেগুলো আপনাকে করতে হবে তাই নিয়েই সামান্য আলোচনা করব। তার আগে ফণী সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা দরকার।

ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ‘ফণী’। ঘণ্টায় ১৭৫-১৮৫ কিমি বেগে ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২০০ কিমি। আবহাওয়া দফতর সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। ‘ফণী’-র তাণ্ডবে তছনছ হতে পারে ওড়িশা। ইতিমধ্যেই ঝড়ের মোকাবিলা করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে বাংলার এই পড়শি রাজ্যে। সব পর্যটককে পুরী থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সে রাজ্যের প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফণীর তাণ্ডবের আশঙ্কায় দক্ষিণ-পূর্ব শাখায় বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

ফণী সামান্য কালবৈশাখী নয়

কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৪০-৫০ এর ভেতর হয়ে থাকে সেখানে ফণী আছড়ে পড়বে ১৩০-২০০ কিমি বেগে। দুর্বল পাকা বাড়ি পর্যন্ত গুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে এই ঝড়ের।

ফণীর তান্ডব চলাকালীন কিছুতেই ঘরের বাইরে থাকবেন না। ফাঁকা জায়গায় আঁটকে পড়লে মাটির উঁচু পাড়ের নিচে শুয়ে পড়বেন। ঝড় না থামা পর্যন্ত উঠে আসার চেষ্টা করবেন না। এই ঝড়ের গতিবেগ মিনিটে মিনিটে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দুর্বল বাড়িতে থাকবেন না। কাঁচা মাটির বাড়ি বা টিন কিংবা কাঠের বাড়ি ১% নিরাপদ নয়। পাতলা দেওয়ালের সিমেন্টের বাড়িও মাত্র ৩০% নিরাপদ। তাই মজবুত পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বাধ্যতামূলক।

বাড়ির কাছাকাছি বড় গাছ থাকলে সেই বাড়িও মোটেও নিরাপদ নয়। যেকোনও বড় গাছকেই ফণী উপড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

রাস্তায় আঁটকা পড়লে কিছুতেই গাছের নিচে দাঁড়াবেন না। ফাঁকা জায়গায় কোনওকিছু আঁকড়ে শুয়ে পড়বেন তাও গাছের নিচে কিছুতেই নয় সে যত বড়ই গাছ হোক।

ঝড়ের তান্ডব

যাদের বাড়ি দুর্বল প্রয়োজনে তাদেরকে আশ্রয় দিন। এই দুর্যোগের দিনে সবাই সবার পশে দাঁড়ান।

ফণীর তান্ডব চলাকালীন মোবাইলে ছবি তোলার রিস্ক নেবেন না। এতে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ফণী এত দ্রুত ছুটে আসবে যা আপনার কল্পনার বাইরে। সাধারণ ঝড়ের সঙ্গে এই ফণী ঝড়কে গুলিয়ে ফেলে বিপদ ডেকে আনবেন না। বলা হচ্ছে বিগত ৪৩ বছরের সবচেয়ে ভয়ানক এই ঝড়

সমুদ্রের কাছে এমন কি নদীর কিনারাও নিরাপদ নয়। তাই সুন্দরের সন্ধান অন্য সময় করবেন। এখন সময় নিরাপদ থাকা। এই কটা দিন রেড এলার্ট জায়গায় না যাওয়াই ভাল সে যতই কাজ থাক। ট্রেন বাস কিছুই নিরাপদ নয়।

নিজে সাবধানে থাকুন পরিবার পরিজন আত্মীয়স্বজন সকলকে নিরাপদে থাকতে বলুন। দায়িত্ব আমার আপনার আমাদের সবার। আমাদের একটা ভুল আমাদের পতিবারের অনেক বড় ক্ষতি করে দিতে পারে। এখন সময় হাতে হাতে সকলে সকলকে ধরে থাকা।

আপনার আগামী সুন্দর হোক এই আশারাখি। প্রর্থনা করি কারু যেন একবিন্দুও ক্ষতি না হয়।

সতর্কবার্তা

সাইক্লোন আসার পূর্বে কী কী প্রস্তুতি নেবেন

১. আতঙ্ক ছড়াবেন না গুজবে কান দেবেন না
২. যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।
৩. মোবাইল ফোনে আগে থেকে সময় করে চার্জ দিয়ে রাখুন।
৪. টিভি ও রেডিও সংবাদে নিয়মিত চোখ রাখুন।
৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কাগজপত্র ডকুমেন্টস সুরক্ষিত রাখুন।
৬. কোনরকম ধারালো কিছু আলগা ফেলে রাখবেন না।
৭. বাড়িতে গবাদি পশুর বাঁধন খুলে রাখুন যাতে ঝড়ের সময় বিপদের সম্মুখীন না হয়।

ঝড়ের সময় কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবেন
১. বাড়ির ইলেকট্রিক কানেকশন এর মেইন সুইচ অফ রাখুন।
২. বাড়ির রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে কানেকশন খুলে রাখুন।
৩. বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ রাখুন।
৪. যদি মনে করেন আপনার বাড়ি ঝড়ের জন্য সুরক্ষিত নয় তাহলে ঝড়ের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
৫.সরকারি মাধ্যম অথবা কোন বিশ্বস্ত কোন মাধ্যম ছাড়া কোনরকম গুজবে কান দেবেন না।

ঝড়ের পরে কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবেন :-
১. ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ভেতর প্রবেশ করবেন না।
ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ইলেকট্রিক খুঁটি অথবা ছেড়ে যাওয়ার তার অথবা ধারালো কোন জিনিস থেকে সাবধান।

২. শান্ত থাকুন এবং আতঙ্কিত মানুষজনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
৩. ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথবা উদ্ধার কারি সদস্য অথবা স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করুন।

ফণীর তান্ডব দেখুন

ফণী

●শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন।

আমাদের অন্যান্য লেখা কিংবা গল্প পড়ুন

This website uses cookies.