X

প্রেমের কবিতা, সিঁদুর চুরি


সিঁদুর চুরি

Bappaditya mukhopadhyay

অর্থের অভাবে আর মাধ্যমিক পেরনো গেল না
পেটের টানে ট্রেনে চেপে মুম্বাই ।
তুই ভাবলি প্রতারক ।তুই ভাবলি ঠক । তুই কাঁদলি ।
ভুল বানানে হলেও তোকে লিখলাম চিঠি,
পরিপাটি কোরে। উত্তর এলনা, আবার লিখলাম,
আবার । আবার । তাও অধরা রইল উত্তর ।

দাঁতে দাঁত চেপে মনকে বললাম শরীর খারাপ
আজ আর খাব না থাক। মাঝে মাঝেই এমন হল
তাতে কিছু টাকা জমল পকেটে,
তাই দিয়ে একটা সিঁদুর কৌটা আর একটা শাড়ি কিনলাম ।
ভাবলাম দায়িত্ববান স্বামী, আবার চিঠি দিলাম,
তুই হয়ত ভাবলি পাগলামি, তাই উত্তর এল না।

তোর গায়ের সাথে একটা অদ্ভুত মিল পেতাম শাড়িটায়
ঘুমালাম কখনো বুকে কখনো রেখে মাথায় ।
পাশের বাড়ির বৌদি যখন তার দুমাসের ছেলেকে চুমু খেত
ছাতে দাঁড়িয়ে ।জানিস একটা অচেনা শিহরণ হত রক্তে ।

একদিন শুনলাম দাদা ভাইএর বিয়ে ফাল্গুনে,
নানান বাহানায় ছুটি চাইলাম বারবার
কিছুতেই কিছু উপাই হল না আর, রাতে কাঁদলাম।
এপাস ওপাশ করলাম শক্ত বিছানায় ।
বড় একা বড় অসহায় লাগলো নিজেকে ।
একদিন হুট কোরে শুনলাম ছুটি মঞ্জুর, টিবি হয়েছে আমার।
কে বলে ভগবান নেই!  দেরিতে হলেও ছুটিত এলো ।
ছুটলাম ট্রেন ধরতে। খুশিতে বার বার আলোর ঝিলিক বেরল
মুখে । জানি না কীভাবে আমার সহরে আমারে এনেদিল যান্ত্রিক বন্ধু ।
আমি ছুটলাম । বন, পুকুর পাড়, তাঁতিদের ডোবা পেরিয়ে আমি ছুটলাম,
আমি ছুটলাম স্বাপ্নের ভেতরে, পকেটে সেই সিঁদুর কৌটা, হাতে
হলুদ শাড়ি। আরও আরও জোরে আমি ছুটলাম । মুখের খুসি
গড়িয়ে নামলো বুকে । মুখে হাত চেপে আমি ছুটলাম।
ঐ ই ই ই তো আমাদের গ্রাম দুটো নদীর ওপারে । আরও আরও
জোরে আমি ছুটলাম । আরও ও ও জোরে ।
তার পর কিছু মনে নেই।

যখন চোখ খুল্লাম, তোর হাতে পাখা, তোর হাতে শাঁখা
সিঁথিতে সিঁদুর । হাতড়ে দেখতে চাইলাম পকেটের সিঁদুর কৌটাটা
নাগাল পেলাম না, সেলাইনে টান পড়ল । পাস ফিরে দেখলাম
হলুদ শাড়িটাও খুশির রঙে লাল হয়ে গেছে । কান্নাটা কাশির সাথে মিশে চেনা গেলনা । এতো ব্যথার জমানো আরব সাগরের নোনা জল
চোখের কোনায় শুকিয়ে গেল । আমি অপলক ভাবে চাইলাম ওই মুখে
অজানা উত্তর, প্রশ্নের ভেতর রয়েগেল । আজও অচেনা উত্তর
বুকের ভেতর ঘুরপাক খায়। জানি সইবেনা তাও মনটা শুনতে চায়
আমার লোকানো সিঁদুরের সন্ধান কতদিন আগে; কীভাবে দাদাভাই পেল!! 

admin:

This website uses cookies.

Read More