Skip to toolbar
ধর্ষণ

ধর্ষণ বা রেপ কী? কেন ধর্ষণ হয়? কীভাবে ধর্ষণ বন্ধ হবে?

ধর্ষণ কী? কেন হয়? কীভাবে বন্ধ হবে? সব কিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব আজকে। এই ধর্ষণ নামন ভয়ংকর ঝড়কে কীভাবে আপনার পরিবার থেকে দূরে রাখবেন জানুন।

How to stop rape ? Why people rape ?

একজন সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর মানুষ হিসেবে সামাজিক ভাবে আপনার কর্তব্য এই ধর্ষণ নামক ভাইরাস থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার রাস্তা চিন্তা করা।

এই ভাইরাস যতক্ষণ পর্যন্ত বাইরে আছে ততক্ষণ আপনি বা আপনার পরিবার নিরাপদ। এই ভাইরাস আপনার পরিবারকে যেদিন ধ্বংস করবে সেই মুহূর্তে আপনি বুঝতে পারবেন ধর্ষণ নামক ভাইরাস ঠিক কতটা মারাত্মক।

তাই বন্ধুরা সেই দিন দেখার আগেই চলুন হাতে হাত মিলিয়ে এই ধর্ষণ নামক ভাইরাস থেকে পৃথিবী কে বাঁচাই।

ধর্ষণ

ধর্ষণ বা রেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা   

ধর্ষণের সংজ্ঞা,- ধর্ষণ বা রেপ হল নারীর অমতে তার সঙ্গে জোর করে মিলন বা মিলনের প্রয়াস। এই নারী শব্দে ছোটবড় বিবাহিত অবিবাহিত সকল মেয়েকেই রাখা হয়েছে। ধর্ষণ বা রেপ শারীরিক বা মানসিক দুভাবেই হতে পারে। পুরুষের অশ্লীল দৃষ্টিও একরকম ভাবে ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে।

ধর্ষণ বা রেপ শব্দটি বর্তমান বাংলার সবচেয়ে আতঙ্কিত একটি শব্দ। মানুষ সচেতন না হলে আপনার আমার বাড়িতেও এই ধর্ষণ নামক ঝড় আসতেই পারে। তাই আজ আমাদের সবার দায়িত্ব নিজের এবং অন্যের পরিবারের দিকে এই ঝড়কে আসতে না দেওয়া।

ধর্ষণ বা রেপ আজকের বাংলায় এক্কেবারে সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে। টিভি বা পেপার খুললেই নিয়মিত দুএকটি এমন ধর্ষণের খবর বা শিশু ধর্ষণের খবর আপনি হয়তো নিশ্চিত পাবেন।

সময় আর সমাজের বুকে শক্তিশালী শেল হয়ে দিন দিন আছড়ে পড়ছে ধর্ষণ। ২-৩ বছরের শিশু কন্যাও এই নর পিশাচদের হাতে আজ আর নিরাপদ নয়। মা বোন বৌ বান্ধবী কোনও শব্দই সম্মানের নয় আজ একটি মেয়ের কাছে। কারণ প্রতিটি ধর্ষণ বা রেপ এই সম্পর্কগুলির মর্যাদা নষ্ট করেই চলেছে।

কেন হয় এই ধর্ষণ বা রেপ? কীভাবে এই ধর্ষণ বা রেপ বন্ধ হবে?   




ধর্ষণের কারণ,-  দেখুন প্রথমেই বলে রাখা ভাল, কোনও সুস্থ মানুষ এই ধর্ষণ বা রেপ করতে পারে না। যারা এমন জঘন্যতম ঘটনা ঘটায় তারা মানুষের পর্যায়েই পড়ে না। তারা মানুষের ছদ্মবেশে এক একটি পিশাচ মাত্র।

আরও পড়ুন Premer golpo

  • ধর্ষণের বা রেপ এর পিছনে যে প্রধান কারণগুলি আছে তাদের ভেতর শ্রেষ্ঠ কারণ, আমাদের মানসিকতা। আজ ২০২০ তে দাঁড়িয়েও আমরা মেয়েদেরকে সম্মান করতে শিখি নি। আজও আমরা মেয়েদেরকে অধিকার দেওয়ার কথা বলি, অথচ একবারও চিন্তা করি না যে, আধিকার দেওয়ার আমরা কে?
  • অধিকার তো প্রতিটি পুরুষের মতো প্রতিটি নারীরও জন্ম থেকেই আছে। দেখবেন একজন শিক্ষিত স্বামীও বলেন, আমি স্ত্রীকে সব স্বাধীনতা দিয়েছি। আচ্ছা স্বামী স্বাধীনতা দেওয়ার কে? 
  • বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাও এই ধর্ষণের জন্য যথেষ্ট দায়ী।  সব কিছুতেই নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া নারী শক্তিকেই ছোট করে দেখানো মাত্র। সব কিছুতেই নারীকে অগ্রাধিক দেওয়া হয় নারী দূর্বল এটা প্রমাণ করার জন্যই। কিন্তু আজকে ভাবার সময় এসেছে যে, নারী দূর্বল নয়। নারী দূর্লভ। নারী সেই ক্ষমতার অধিকারী যা পুরুষকে জন্ম দেয়। নারীকে দূর্বল ভাবার মানসিকতাটাও পরিবর্তন হওয়া একান্ত দরকার।
  • একটি মেয়ের অশ্লীল পোষাক অবশ্যই একটি রেপ বা ধর্ষণের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু একজন পিতা বা মাতার উচিৎ তার পুত্রকে এমন ভাবে বড় করা যাতে নারীর পোশাক তার সংযম নষ্ট না করতে পারে। কন্যার পোশাকের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন কিন্তু তার চেয়েও বেশি খেয়াল রাখুন পুত্রের গতিবিধির উপর। আপনার পুত্র কোথায় যায়, কী করে, কী খায়, কী দেখে, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করে, কখন ঘরে আসে, কখন যায় সবকিছু খেয়াল করুন।কারণ আপনার আমার সন্তান মানুষ হলে একটাও রেপ বা ধর্ষণ হবে না। সমস্যা আমার আপনার সন্তান অমানুষ হচ্ছে বলেই।

১৩ বছর বয়স থেকেই আপনার পুত্র বা কন্যাকে শরীরের সব খুঁটিনাটি শিক্ষা দিন। বিভ্রান্ত করবেন না, ভুল শিক্ষা দেবেন না। এই শিক্ষা দেওয়ায় লজ্জার কিছুই নেই। এই শিক্ষা দিতে না পারাটাই লজ্জার। প্রতিটি মানুষের ভেতর শরীরের চাহিদা জন্ম থেকেই আছে, সেই চাহিদাকে সঠিক পথে পরিচালনা করা মা বাবার দায়িত্ব। অজ্ঞতা আর কুশিক্ষা মারাত্মক রোগের সমান।

আরও পড়ুন,- হাসির গল্প

ধর্ষণ বা রেপ মুক্ত সমাজ

ধর্ষণ রেপ সম্পর্কে সাধারণ সচেতনতা   

দেখুন একদিনেই সমাজ আর মানসিকতা বদলে যাবে না। ফাঁসি বা এনকাউন্টার করলেই ধর্ষণ বা রেপ পুরোপুরি বন্ধও হবে না। সরাকারকে কঠোর হতেই হবে। দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব সরকারের চেয়েও বেশি।

খুব প্রয়োজন ছাড়া রাত্রিতে আপনার মেয়েকে একা অন্তত রাস্তায় ছাড়বেন না। আর আপনার ছেলের রাতের আড্ডা বন্ধ করুন। প্রতিটা পুত্রের পিতা সচেতন হলে কন্যার পিতারা নিরাপদ। 

আপনি যদি কোনও পুত্রের পিতা বা মাতা তাহলে আপনার দায়িত্ব অনেক বেশি। আমরা কেউ চাই না আমার পুত্র অমানুষের মতো কাজ করুক। তারপর তার ফাঁসি বা এনকাউন্টার হোক। 

একটি মেয়ের অশ্লীল পোষাক পরিবর্তন হওয়া যতটা দরকার তারচেয়ে কয়েশগুন বেশি দরকার একটি ছেলের মানসিকতার পরিবর্তন।

পুত্রের বিপথে যাওয়া পা যদি আজকে না আটকানো যায় তাহলে সেদিনও পুলিশের গুলি বা ফাঁসির দড়িকে আটকানো যাবে না।

একজন সুসন্তান আগামীর সফল পিতা। সুসন্তান তৈরি করুন। কন্যাকে ছোট থেকেই বোঝান সে দূর্বল নয়।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী ধর্ষণ সম্পর্কে কোনওরকম অভিযোগ থাকলে কল করুন    call the Women’s Helpline number 1091

আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন visit http://www.wcd.nic.in/

এই লেখাটি সমস্ত ধর্ষক এবং ধর্ষণের প্রতিবাদ




Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

COVID-19

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখুন