Skip to toolbar
শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন

জ্বলছে শুশুনিয়া পাহাড় সঙ্গে ভূমিকম্প

কয়েকদিন থেকেই ধিকধিক করে আগুন জ্বলছিল শুশুনিয়া পাহাড়া, হঠাৎ করে কাল রাত থেকেই বাড়তে শুরু আগুন। লকডাউং অবস্থা এখন হাতের বাইরে।

 

শুশুনিয়া পাহাড়ে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন, সঙ্গে ভূমিকম্প

কয়েক দিন থেকেই লিকলিক করে আগুন জ্বলছিল শুশুনিয়া পাহাড়ে। গতকাল রাত থেকে তা ভয়ানক আকার নিতে শুরু করে। বন দপ্তর বা দমকলকর্মীরা সেই আগুন নেভাতে পারছে না কিছুতেই।

শুশুনিয়া পাহাড়ে এই আগুন লাগানোর প্রথা আজকের নয়। বছরের পর বছর ধরে চৈত্র মাসের প্রথম দিকেই এই আগুন এক বিশেষ কারণেই লাগানো হয়। এবারে সেই আগুন মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

চৈত্রমাসে শুশুনিয়ায় প্রতিবছর ধারা পরব বা ধারার মেলা বসে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই মেলায় আসেন। তারা পাহাড়েও উঠেন। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই পাহাড়ের সামনের দিকে আগুন লাগানো হয়।

কিন্তু আগুন লাগানো হয় এমন ভাবেই যাতে আগুন বহুদূর ছড়িয়ে না পড়ে। অর্থাৎ পাহাড়ের গায়ে যে শুকনো পাতা পড়ে থাকে সেগুলোতে আগুন ধরানো হয়। এবং আগুন ধরানোর এলাকার থেকে ৫০-৭০ মিটার দূরের পাতা সরিয়ে পরিস্কার করা হয়, যাতে আগুন বেশিদূর না ছড়ায়। এভাবেই বৃত্তাকারে আগুন দেওয়া হয় বহু জায়গায়।

আগুন লাগানোর প্রধান কারণ শুশুনিয়া পাহাড়ের বন্যপ্রাণী গুলোকে পাহাড়ের পিছন দিকে তাড়িয়ে দেওয়া। শুশুনিয়া পাহাড়ের উপর হায়না নেকড়ে বা শেয়ালের অভাব নেই, দেখতে পাওয়া যায় বুনো শুয়োর সজারু। এরা পাহাড়ের সামনের দিকে থাকলে মেলায় জমা হওয়া মানুষ পাহাড়ে চড়বে না, তাই মেলার প্রধান আকর্ষণ পাহাড়টিকে নিরাপদ রাখতেই এই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এবার লকডাউনের জন্য মেলা বসেনি শুশুনিয়ায়, কিন্তু পাতা জমেছিল পাহাড়ে প্রচুর। যেসমন আগুন দেওয়া হয়, তা পেরিয়েছে ২০ দিন আগেই। তাই এখন পাহাড়ে শুকনো পাতা অনেক বেশি। এবং যে বা যারা এই আগুন লাগিয়েছে তারা কোনও নিয়ম না মেনেই আগুন লাগিয়েছে। এজন্যই আগুন চলেগেছে কন্ট্রোলের বাইরে।

প্রতিবছর শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন লাগানোত পত নেকড়ে আর হায়নার দল চলে আসে এই আসে পাশের গামগুলিতে। প্রায় দুমাস ধরে ওই পশুদের অত্যাচার  সহ্য করতে হয়। ছাগল ভেড়া মুরগী প্রতিদিন চুরি যায়।

সেই বন্য পশুদের বিপুল পরিমানে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা এই আগুনে।শুশুনিয়া গ্রামবাসীর বক্তব্য, পাহাড়ে পুড়ছে বন্যপ্রাণী কারণ মাংস পোড়ার গন্ধ আসছে বাতাসে।

শুশুনিয়ায় আগুন সঙ্গে ভূমিকম্প

এর ভেতরেই আজকে ১১ টা ২০ থেকে ১১ টাপঁচিশের ভেতর পর পর দুবার ভূমিকম্প হয়েছে বাঁকুড়ায়। ভূমিকম্পের গর্জনছিল খুবই তীব্র।

আমার গ্রাম শুশুনিয়া থেকে ৫ কিমি দূরে। আমার নিজের মনে হয়েছে গুড়গুড় শব্দ এবং কম্পন দুই শুশুনিয়া পাহাড় থেকেই এসেছে। এটা শুধুমাত্র আমার মনে হওয়া। আমি সেই সময় বাড়ির ছাদেইছিলাম।

শুশুনিয়া পাহাড়ের তীব্র আগুনের সঙ্গে এই ভূমিকম্পের কোনও যোগাযোগ আছে কি নেই তা এখন বলা সম্ভব নয়, তবে বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল খুঁজছেন। উৎপত্তি স্থল শুশুনিয়া হলে পাহাড়ের আগুনের সঙ্গে এই ভূমিকম্পের সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক।

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

COVID-19

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখুন