অমর প্রেমে মাতিয়ে দিল ধূপগুড়ির অনন্ত লিপিকা

অনন্ত লিপিকার প্রেম, মাতল শহর মাতল রাজ্য

অনন্ত লিপিকা

৮ বছরের প্রেম ভাঙতে বসেছিল, কিন্তু প্রেমে জিততে প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধরনায় বসছেন প্রেমিক, বিশ্বে এমন ঘটনা আছে কি? জলপাইগুড়ির অনন্ত বর্মণ কিন্তু সেই জিনিসটাই করেছিলেন। ধরনা আর সেইসঙ্গে অনশন- অনেক টালবাহানার পর অবশেষে এল জয়। যুদ্ধজয়ের চেয়ে যা কোনও অংশে কম নয়।
আট বছর ধরে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল।

কিন্তু কিছুদিন ধরে প্রেমিকা লিপিকা অনন্তকে এড়িয়ে চলা শুরু করে। এমনকী ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। এক এক করে হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল নম্বর সমস্ত কিছু ব্লক করে দেয়। এতেই খেপে যায় অনন্ত। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে প্রেমিকাকে অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার।

রবিবার সোনাপুর থেকে প্রেমিকাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে এই খবর পেয়ে কলেজপাড়ায় রাস্তার মোড়ে বন্ধুদের নিয়ে জমায়েত করে অনন্ত। এর পর প্রেমিকার বাড়ির সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ধরনায় বসে পড়ে অনন্ত। দাবি,আট বছর তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধুপগুড়ি থানার পুলিশ। কিন্তু প্রেমিক যুবক নাছোড়বান্দা, সে কোনও ভাবেই উঠতে রাজি নয়।

অনন্ত-লিপিকা

এলাকার লোকজনের কথায়, “দু’দিন ধরে শুকনো মুখে বসেছিল ছেলেটা। মুখে কোনও কথা নেই। সোমবার দুপুরে অসুস্থও হযে পড়েছিল।” অনন্তের কষ্টে সামিল হন এলাকাবাসীও। জানা গেছে, এমন ধর্নার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ারের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ভিড় জমান কলেজপাড়ায়।  লিপিকার বাড়ির সামনে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানাতেও খবর দেন লিপিকার পরিবারের লোকজন। পুলিশ এলেও সমস্যা মেটেনি। যতক্ষণ না লিপিকা পাকাপাকি ভাবে অনন্তকে মেনে নিচ্ছেন, ততক্ষণ বিক্ষোভ চলবে বলে শোরগোল শুরু করেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পৌঁছন অনন্তের বাড়ির লোকজনেরাও। দু’পক্ষের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিটমাট করাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ধূপগুড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও।

অবশেষে সম্মতি দেন প্রেমিকা। ধর্না তুলে চার হাত এক হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় অনন্তের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় লিপিকাকে। সেখানেই হয় সিঁদুর দান। পরে হাসপাতাল পাড়ার একটি মন্দিরে সাত পাকে বাঁধা পড়েন অনন্ত-লিপিকা।

ইন্টারনেটে যে ভিউয়াররা রবিবার থেকেই প্রেমিক যুবকের ধর্নার কথা ভাইরাল করছিলেন, তাঁরাও সমস্বরে বলে উঠেছেন, “ভালোবাসার জয়।’ শুভেচ্ছার ঢেউয়ে ছাপিয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া।

এটা আনন্দের যে এখনো আধুনিকতার জোয়ারে প্রেমে পচন ধরেনি। মানুষ আজও ভালবাসতে জানে। সত্যিই এভাবেও ভালবাসা যায়।

এখানে ক্লিক করে পড়ুন বাংলা হট স্টোরি

" admin : ."

This website uses cookies.